ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন আটক লালমোহনে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত যুবদল নেতাকে আর্থিক সহায়তা দিলেন স্পিকার অব. হাফিজ উদ্দিন  লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার

৭টি পাম্পের মধ্যে ৫টি অচল! লালমোহন পৌরসভায় পানির জন্য হাহাকার

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা) :
  • আপডেট : ০৭:০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার লালমোহন পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির সংকট তীব্র রূপ ধারণ করেছে। অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে পানি পাচ্ছেন না নাগরিকরা। পৌরসভায় ৭টি ভূগর্ভস্থ পানির পাম্প থাকলেও তার মধ্যে অচল ৫টি। বাকি দুইটির অবস্থাও চরম নাজুক। ঠিকমতো পানি না পেলেও বিল পাচ্ছেন অনেক গ্রাহক। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন নাগরিকরা। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির হলেও এখনো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না নাগরিকরা।

লালমোহন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শিবলু জানান, এক মাসের মতো পৌরসভার পানি ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পানির বিল ঠিকমতো পাচ্ছি। বিষয়টি পৌরসভায় বার বার জানানোর পরেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে করে পানির জন্য ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ছি।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার কটেজের বাসিন্দা সোয়েব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, গত এক মাস ধরে বাসায় পৌরসভার পানি পাচ্ছি না। কয়েকবার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। পৌরসভার পানি না পেয়ে এখন বাসায় পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।

জানা গেছে, লালমোহন পৌরসভায় ৭টি ভূগর্ভস্থ পানির পাম্প রয়েছে। এগুলোর ৫টিই বিকল, দুইটি কোনো রকমে চলছে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে স্থাপন করা হয় এসব পাম্প। এর একটিও পৌরসভার অর্থায়নে বসানো হয়নি। ৫টি জনস্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বসানো হয়েছে, আর দুইটি দাতা সংস্থা বিএমডিএফের অর্থায়নে ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে বসানো হয়েছে নাগরিকদের সুপেয় পানি সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে। বর্তমানে পৌরসভায় পানির গ্রাহক রয়েছেন অন্তত চারশত।

লালমোহন পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়াটার সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি পানির পাম্প নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে দুইটি পাম্প দিয়ে গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। এ জন্য কিছু কিছু এলাকার গ্রাহকরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছেন না। আমরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরপ্রশাসক মো. শাহ আজিজ বলেন, নষ্ট পাম্পগুলোর মধ্যে কয়েকটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী কয়েকদিনের ভেতর অন্তত চারটি পানির পাম্প মেরামত করা সম্ভব হবে। এরপর গ্রাহকদের পানির এ সংকট আর থাকবে না। এছাড়া এই সমস্যা সমাধানের জন্য কেউ কেউ বলছেন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লানের কথা। এটি অনেক বড় প্রকল্প। যা এখানে সম্ভব নাও হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকৌশলী টিম এসে পরিদর্শন করবেন। এরপর নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের জন্য কী পদক্ষেপ নিতে হবে তারা তা জানাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

৭টি পাম্পের মধ্যে ৫টি অচল! লালমোহন পৌরসভায় পানির জন্য হাহাকার

আপডেট : ০৭:০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভোলার লালমোহন পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির সংকট তীব্র রূপ ধারণ করেছে। অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে পানি পাচ্ছেন না নাগরিকরা। পৌরসভায় ৭টি ভূগর্ভস্থ পানির পাম্প থাকলেও তার মধ্যে অচল ৫টি। বাকি দুইটির অবস্থাও চরম নাজুক। ঠিকমতো পানি না পেলেও বিল পাচ্ছেন অনেক গ্রাহক। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন নাগরিকরা। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির হলেও এখনো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না নাগরিকরা।

লালমোহন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শিবলু জানান, এক মাসের মতো পৌরসভার পানি ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পানির বিল ঠিকমতো পাচ্ছি। বিষয়টি পৌরসভায় বার বার জানানোর পরেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে করে পানির জন্য ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ছি।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার কটেজের বাসিন্দা সোয়েব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, গত এক মাস ধরে বাসায় পৌরসভার পানি পাচ্ছি না। কয়েকবার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। পৌরসভার পানি না পেয়ে এখন বাসায় পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।

জানা গেছে, লালমোহন পৌরসভায় ৭টি ভূগর্ভস্থ পানির পাম্প রয়েছে। এগুলোর ৫টিই বিকল, দুইটি কোনো রকমে চলছে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে স্থাপন করা হয় এসব পাম্প। এর একটিও পৌরসভার অর্থায়নে বসানো হয়নি। ৫টি জনস্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বসানো হয়েছে, আর দুইটি দাতা সংস্থা বিএমডিএফের অর্থায়নে ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে বসানো হয়েছে নাগরিকদের সুপেয় পানি সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে। বর্তমানে পৌরসভায় পানির গ্রাহক রয়েছেন অন্তত চারশত।

লালমোহন পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়াটার সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি পানির পাম্প নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে দুইটি পাম্প দিয়ে গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। এ জন্য কিছু কিছু এলাকার গ্রাহকরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছেন না। আমরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরপ্রশাসক মো. শাহ আজিজ বলেন, নষ্ট পাম্পগুলোর মধ্যে কয়েকটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী কয়েকদিনের ভেতর অন্তত চারটি পানির পাম্প মেরামত করা সম্ভব হবে। এরপর গ্রাহকদের পানির এ সংকট আর থাকবে না। এছাড়া এই সমস্যা সমাধানের জন্য কেউ কেউ বলছেন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লানের কথা। এটি অনেক বড় প্রকল্প। যা এখানে সম্ভব নাও হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকৌশলী টিম এসে পরিদর্শন করবেন। এরপর নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের জন্য কী পদক্ষেপ নিতে হবে তারা তা জানাবেন।