ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু। স্কুল ফাঁকি দিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়ালেন প্রধান শিক্ষক চারঘাটে VWB কর্মসূচির উপকারভোগীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (TOT) অনুষ্ঠিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি পুলিশের নিষেধের পর ও কাজ/ দক্ষিণ আইচা বিরোধীয় জমিতে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ লালমোহনে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক লালমোহনে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ডক্টরস চেম্বারের উদ্বোধন লালমোহনে এসএসসির ফলাফলে শীর্ষে হা-মীম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মরণে আলোচনা সভা, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মরণে আলোচনা সভা, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

শ্রীনগরে মোবাইল চুরির অপবাদে শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ১

খান সুজন
  • আপডেট : ১০:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪ ৯২ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শ্রীনগরে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ১১ বছরের এক শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ সামনে গেলেই মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী ইয়াছিন আরাফাতকে (২৪) গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেউলভোগ সবুজহাটি এলাকার ইমান আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া কাঠমিস্ত্রি সাগর হাওলাদারের ছেলে নাহিদকে (১১) মোবাইল ফোন চোর অপবাদ দিয়ে গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাসার সামনে থেকে একই এলাকার মোস্তফা জামানের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত, তার বন্ধু রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ বেশ কয়েকজন মিলে ধরে নিয়ে যায়। ইয়াছিন আরাফাত ও তার লোকজন মিলে নাহিদকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গাছের ডাল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে শিশু নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে উদ্ধারের জন্য গেলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তারা মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নাহিদকে উলঙ্গ করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে নাহিদের হাতের আঙ্গুলে প্লাস দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে আঘাত করে। এতেও কাজ না হওয়ায় নির্যাতনকারীরা গ্যাস লাইটের আগুনের তাপ ও চাবি আগুনে পুড়ে লাল করে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাকা দেয়। তারা দিনভর নাহিদকে আটকে রেখে নির্যাতন করতে থাকে। নাহিদের বাবা-মা অস্থির হয়ে বেশ কয়েকবার ছেলে উদ্ধারের জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গিয়ে হাতে পায়ে ধরলেও তাদের মন গলেনি। রাত ৮টার দিকে ফের নাহিদের বাবা সাগর হাওলাদার ছেলেকে আনার জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গেলে দেখেন সেখানে নাহিদ নেই। এতে দরিদ্র ভাড়াটিয়া সাগর হাওলাদার পাগলের মতো থানায় ছুটে আসেন। রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা নাহিদকে সুবজহাটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করে তার বাবা-মাকে খবর দেয়। নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে নিয়ে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদকে ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। স্থানীয়রা জানায়, ইয়াছিন আরাফাত, রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ এই গ্রæপটি বিএনপি নেতা ইদ্রিস শেখের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করে থাকে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের কারনে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ কাছে গেলেই আমাকে আর মারবেননা মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজ সেবা অফিস ছেলেটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঘটনায় সাগর হাওলাদার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা গ্রহন করে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

শ্রীনগরে মোবাইল চুরির অপবাদে শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ১

আপডেট : ১০:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

শ্রীনগরে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ১১ বছরের এক শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ সামনে গেলেই মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী ইয়াছিন আরাফাতকে (২৪) গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেউলভোগ সবুজহাটি এলাকার ইমান আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া কাঠমিস্ত্রি সাগর হাওলাদারের ছেলে নাহিদকে (১১) মোবাইল ফোন চোর অপবাদ দিয়ে গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাসার সামনে থেকে একই এলাকার মোস্তফা জামানের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত, তার বন্ধু রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ বেশ কয়েকজন মিলে ধরে নিয়ে যায়। ইয়াছিন আরাফাত ও তার লোকজন মিলে নাহিদকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গাছের ডাল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে শিশু নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে উদ্ধারের জন্য গেলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তারা মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নাহিদকে উলঙ্গ করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে নাহিদের হাতের আঙ্গুলে প্লাস দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে আঘাত করে। এতেও কাজ না হওয়ায় নির্যাতনকারীরা গ্যাস লাইটের আগুনের তাপ ও চাবি আগুনে পুড়ে লাল করে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাকা দেয়। তারা দিনভর নাহিদকে আটকে রেখে নির্যাতন করতে থাকে। নাহিদের বাবা-মা অস্থির হয়ে বেশ কয়েকবার ছেলে উদ্ধারের জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গিয়ে হাতে পায়ে ধরলেও তাদের মন গলেনি। রাত ৮টার দিকে ফের নাহিদের বাবা সাগর হাওলাদার ছেলেকে আনার জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গেলে দেখেন সেখানে নাহিদ নেই। এতে দরিদ্র ভাড়াটিয়া সাগর হাওলাদার পাগলের মতো থানায় ছুটে আসেন। রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা নাহিদকে সুবজহাটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করে তার বাবা-মাকে খবর দেয়। নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে নিয়ে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদকে ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। স্থানীয়রা জানায়, ইয়াছিন আরাফাত, রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ এই গ্রæপটি বিএনপি নেতা ইদ্রিস শেখের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করে থাকে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের কারনে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ কাছে গেলেই আমাকে আর মারবেননা মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজ সেবা অফিস ছেলেটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঘটনায় সাগর হাওলাদার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা গ্রহন করে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।