ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
আহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ২০২৬ ইং সনের দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আইচা কলেজের গভর্নিং বডির কমিটি অনুমোদন লালমোহনে অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত লালমোহন নয়ানীগ্রামে মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙ্গার ঘটনায় ক্ষোভ হিউম্যান রাইটস অ্যালাইভের উপদেষ্টা কমিটিতে মোঃ সাহাবুদ্দিন খান, চাঁদপুরবাসীর অভিনন্দন মুন্সীগঞ্জের তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ লালমোহনে চালের ডিওতে সমঝোতা বাণিজ্য টনপ্রতি নূন্যতম ৫শ টাকা নেওয়ার অভিযোগ লালমোহনে ওরকাইতের বিরুদ্ধে ভুয়া ষ্টাম্প তৈরী করে জমি দখলে নিয়ে ভবন নির্মানের অভিযোগ নির্দোষ হয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছি,তদন্তের দাবি জানালেন যুবদল নেতা ‎ অবরোধের ৪০ দিন পার হলেও চাল না পাওয়ায় জেলেদের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

শ্রীনগরে মোবাইল চুরির অপবাদে শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ১

নাজমুল খান সুজন
  • আপডেট : ১০:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শ্রীনগরে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ১১ বছরের এক শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ সামনে গেলেই মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী ইয়াছিন আরাফাতকে (২৪) গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেউলভোগ সবুজহাটি এলাকার ইমান আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া কাঠমিস্ত্রি সাগর হাওলাদারের ছেলে নাহিদকে (১১) মোবাইল ফোন চোর অপবাদ দিয়ে গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাসার সামনে থেকে একই এলাকার মোস্তফা জামানের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত, তার বন্ধু রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ বেশ কয়েকজন মিলে ধরে নিয়ে যায়। ইয়াছিন আরাফাত ও তার লোকজন মিলে নাহিদকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গাছের ডাল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে শিশু নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে উদ্ধারের জন্য গেলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তারা মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নাহিদকে উলঙ্গ করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে নাহিদের হাতের আঙ্গুলে প্লাস দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে আঘাত করে। এতেও কাজ না হওয়ায় নির্যাতনকারীরা গ্যাস লাইটের আগুনের তাপ ও চাবি আগুনে পুড়ে লাল করে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাকা দেয়। তারা দিনভর নাহিদকে আটকে রেখে নির্যাতন করতে থাকে। নাহিদের বাবা-মা অস্থির হয়ে বেশ কয়েকবার ছেলে উদ্ধারের জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গিয়ে হাতে পায়ে ধরলেও তাদের মন গলেনি। রাত ৮টার দিকে ফের নাহিদের বাবা সাগর হাওলাদার ছেলেকে আনার জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গেলে দেখেন সেখানে নাহিদ নেই। এতে দরিদ্র ভাড়াটিয়া সাগর হাওলাদার পাগলের মতো থানায় ছুটে আসেন। রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা নাহিদকে সুবজহাটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করে তার বাবা-মাকে খবর দেয়। নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে নিয়ে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদকে ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। স্থানীয়রা জানায়, ইয়াছিন আরাফাত, রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ এই গ্রæপটি বিএনপি নেতা ইদ্রিস শেখের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করে থাকে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের কারনে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ কাছে গেলেই আমাকে আর মারবেননা মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজ সেবা অফিস ছেলেটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঘটনায় সাগর হাওলাদার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা গ্রহন করে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

শ্রীনগরে মোবাইল চুরির অপবাদে শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ১

আপডেট : ১০:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

শ্রীনগরে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ১১ বছরের এক শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ সামনে গেলেই মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী ইয়াছিন আরাফাতকে (২৪) গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেউলভোগ সবুজহাটি এলাকার ইমান আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া কাঠমিস্ত্রি সাগর হাওলাদারের ছেলে নাহিদকে (১১) মোবাইল ফোন চোর অপবাদ দিয়ে গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাসার সামনে থেকে একই এলাকার মোস্তফা জামানের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত, তার বন্ধু রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ বেশ কয়েকজন মিলে ধরে নিয়ে যায়। ইয়াছিন আরাফাত ও তার লোকজন মিলে নাহিদকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গাছের ডাল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে শিশু নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে উদ্ধারের জন্য গেলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তারা মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নাহিদকে উলঙ্গ করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে নাহিদের হাতের আঙ্গুলে প্লাস দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে আঘাত করে। এতেও কাজ না হওয়ায় নির্যাতনকারীরা গ্যাস লাইটের আগুনের তাপ ও চাবি আগুনে পুড়ে লাল করে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাকা দেয়। তারা দিনভর নাহিদকে আটকে রেখে নির্যাতন করতে থাকে। নাহিদের বাবা-মা অস্থির হয়ে বেশ কয়েকবার ছেলে উদ্ধারের জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গিয়ে হাতে পায়ে ধরলেও তাদের মন গলেনি। রাত ৮টার দিকে ফের নাহিদের বাবা সাগর হাওলাদার ছেলেকে আনার জন্য ইয়াছিনদের বাড়িতে গেলে দেখেন সেখানে নাহিদ নেই। এতে দরিদ্র ভাড়াটিয়া সাগর হাওলাদার পাগলের মতো থানায় ছুটে আসেন। রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা নাহিদকে সুবজহাটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করে তার বাবা-মাকে খবর দেয়। নাহিদের বাবা-মা ছেলেকে নিয়ে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদকে ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। স্থানীয়রা জানায়, ইয়াছিন আরাফাত, রিয়াদ, শাহাদাৎ, শিহাবসহ এই গ্রæপটি বিএনপি নেতা ইদ্রিস শেখের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করে থাকে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের কারনে শিশুটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। কেউ কাছে গেলেই আমাকে আর মারবেননা মারবেননা বলে চিৎকার করে উঠছে। শ্রীনগর উপজেলা সমাজ সেবা অফিস ছেলেটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঘটনায় সাগর হাওলাদার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা গ্রহন করে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।