ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমোহন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার টিআর কাবিখার তথ্য নিয়ে লুকোচুরি

নাজমুল খান সুজন
  • আপডেট : ০৭:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পলাশ সমদ্দারের বিরুদ্ধে টিআর কাবিখার প্রকল্প নিজেরাই বাস্তবায়নের অভিযোগসহ তথ্য লুকানোর অভিযোগ উঠেছে| বাস্তবায়নাধীন টিআর, কাবিখার প্রকল্প ওয়েবসাইটে দেওয়ার কথা বললেও তিনি ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করেননি|

 

 

অভিযোগ উঠেছে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কর্তারকাচারী মসজিদের উন্নয়নে জন্য ২লাখ টাকা বরাদ্দ হয়| কিন্তু মসজিদের কোন মুসল্লী ওই বরাদ্দের তথ্য জানেননা| টাকা মসজিদের একাউন্টেও জমা হয়নি| বিষয়টি স্থানীয় কেউ অফিসে অভিযোগ করলে প্রকল্প অফিস থেকে মসজিদে তদন্তে যায়| তখন বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়| এক পর্যায়ে গত জুমার দিনে মসজিদে টাকার বিষয়টি মুসল্লীরা উত্থাপন করলে কমিটির সভাপতি শিকার করতে বাধ্য হন| এধরণের অনিয়ম যাচাই করতে লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দারের কাছে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তথ্য চাইতে গেলে তিনি লুকোচুরি করেন| ৩ দিন তথ্যের জন্য প্রকল্প অফিসে গেলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে তথ্য সরবরাহ করতে গড়িমসি করেন| শেষে কয়েকটি টিউবওয়েলের আংশিক তথ্য দিলেও পুরো তথ্য সরবরাহ করতে তিনি অ¯^ীকৃতি জানান| এমনকি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর, কাবিখার তথ্য উপজেলা ‘তথ্য বাতায়নে’ প্রকাশ করলেও এই অর্থবছরের কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি| তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, সেখান থেকে নিতে বললেও গত ৩দিন অপেক্ষা করেও ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যায়নি| অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জাফর ইকবাল টিআর কাবিখার তালিকা জোরপূর্বক তার অফিস থেকে নিয়ে গেছেন-পিআইও’র বক্তব্যে অনলাইনে এমন নিউজ প্রকাশ করা হয়| বিএনপি সভাপতি জাফর ইকবাল জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে কয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এমন তালিকা চাইতেই পারি| কিন্তু পিআইও সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ভুল|

 

 

উপজেলা দুর্নিতী প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান লিটন জানান, প্রকল্প অফিসের বাস্তবায়নকৃত টিআর, কাবিখা’র বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে প্রকল্প এলাকার সুবিধাভোগীরা জানতে পারতো| ¯^চ্ছতা থাকলে দুর্নিতী কমবে| সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, ¯^চ্চতা ও জবাবদিহিতার জন্য তালিকা প্রকাশ জরুরী| কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের লুকোচুরির কারণে কিছু আশংকা থেকে যাচ্ছে|

 

সূত্র মতে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কর্তারকাচারী মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২লাখ টাকা বরাদ্দ হয়| গত বছরের নভে¤^র মাসে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নয়ন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সেন্টু টাকা উত্তোলন করেন| ওই টাকা মসজিদের একাউন্টে না রেখে আত্মসাতের চেস্টা চালায় তারা| চলতি সপ্তাহে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃস্টি হয়|

 

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিভিন্ন ঠিকাদারদের পাশাপাশি নিজেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন| যার মধ্যে রয়েছে একাধিক টিউবওয়েল| এসব টিউবওয়েল ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলে সর্বমোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে| ভ্যাট বাদ দিয়ে বাকী টাকা পিআইও অফিসের| এধরণের প্রায় ২০টি টিউবওয়েলের কাজ করান পিআইও|
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দার জানান, কোন প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করিনি| সকল প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে করা হয়েছে| প্রকল্প কমিটি বা সিপিসি কাজ শেষ করেছেন| তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য অফিস সহকারীকে বলে দিয়েছি|

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

লালমোহন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার টিআর কাবিখার তথ্য নিয়ে লুকোচুরি

আপডেট : ০৭:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পলাশ সমদ্দারের বিরুদ্ধে টিআর কাবিখার প্রকল্প নিজেরাই বাস্তবায়নের অভিযোগসহ তথ্য লুকানোর অভিযোগ উঠেছে| বাস্তবায়নাধীন টিআর, কাবিখার প্রকল্প ওয়েবসাইটে দেওয়ার কথা বললেও তিনি ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করেননি|

 

 

অভিযোগ উঠেছে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কর্তারকাচারী মসজিদের উন্নয়নে জন্য ২লাখ টাকা বরাদ্দ হয়| কিন্তু মসজিদের কোন মুসল্লী ওই বরাদ্দের তথ্য জানেননা| টাকা মসজিদের একাউন্টেও জমা হয়নি| বিষয়টি স্থানীয় কেউ অফিসে অভিযোগ করলে প্রকল্প অফিস থেকে মসজিদে তদন্তে যায়| তখন বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়| এক পর্যায়ে গত জুমার দিনে মসজিদে টাকার বিষয়টি মুসল্লীরা উত্থাপন করলে কমিটির সভাপতি শিকার করতে বাধ্য হন| এধরণের অনিয়ম যাচাই করতে লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দারের কাছে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তথ্য চাইতে গেলে তিনি লুকোচুরি করেন| ৩ দিন তথ্যের জন্য প্রকল্প অফিসে গেলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে তথ্য সরবরাহ করতে গড়িমসি করেন| শেষে কয়েকটি টিউবওয়েলের আংশিক তথ্য দিলেও পুরো তথ্য সরবরাহ করতে তিনি অ¯^ীকৃতি জানান| এমনকি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর, কাবিখার তথ্য উপজেলা ‘তথ্য বাতায়নে’ প্রকাশ করলেও এই অর্থবছরের কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি| তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, সেখান থেকে নিতে বললেও গত ৩দিন অপেক্ষা করেও ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যায়নি| অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জাফর ইকবাল টিআর কাবিখার তালিকা জোরপূর্বক তার অফিস থেকে নিয়ে গেছেন-পিআইও’র বক্তব্যে অনলাইনে এমন নিউজ প্রকাশ করা হয়| বিএনপি সভাপতি জাফর ইকবাল জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে কয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এমন তালিকা চাইতেই পারি| কিন্তু পিআইও সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ভুল|

 

 

উপজেলা দুর্নিতী প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান লিটন জানান, প্রকল্প অফিসের বাস্তবায়নকৃত টিআর, কাবিখা’র বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে প্রকল্প এলাকার সুবিধাভোগীরা জানতে পারতো| ¯^চ্ছতা থাকলে দুর্নিতী কমবে| সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, ¯^চ্চতা ও জবাবদিহিতার জন্য তালিকা প্রকাশ জরুরী| কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের লুকোচুরির কারণে কিছু আশংকা থেকে যাচ্ছে|

 

সূত্র মতে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কর্তারকাচারী মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২লাখ টাকা বরাদ্দ হয়| গত বছরের নভে¤^র মাসে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নয়ন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সেন্টু টাকা উত্তোলন করেন| ওই টাকা মসজিদের একাউন্টে না রেখে আত্মসাতের চেস্টা চালায় তারা| চলতি সপ্তাহে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃস্টি হয়|

 

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিভিন্ন ঠিকাদারদের পাশাপাশি নিজেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন| যার মধ্যে রয়েছে একাধিক টিউবওয়েল| এসব টিউবওয়েল ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলে সর্বমোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে| ভ্যাট বাদ দিয়ে বাকী টাকা পিআইও অফিসের| এধরণের প্রায় ২০টি টিউবওয়েলের কাজ করান পিআইও|
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দার জানান, কোন প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করিনি| সকল প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে করা হয়েছে| প্রকল্প কমিটি বা সিপিসি কাজ শেষ করেছেন| তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য অফিস সহকারীকে বলে দিয়েছি|