ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন আটক লালমোহনে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত যুবদল নেতাকে আর্থিক সহায়তা দিলেন স্পিকার অব. হাফিজ উদ্দিন  লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার

অবলা প্রাণিদের জীবন নিয়ে খেলেন কথিত পশুচিকিৎসকরা

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
  • আপডেট : ০৭:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে রয়েছে কথিত পশুচিকিৎসক। নামমাত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে অবলা প্রাণিদের জীবন নিয়ে রীতিমতো খেলা করেন তারা। এসব কথিত পশুচিকিৎসকদের অপচিকিৎসায় প্রাণ হারায় বিভিন্ন প্রজাতির পোষা প্রাণি। ভোলার লালমোহন উপজেলারও বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন এসব কথিত পশুচিকিৎসকরা। উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ এলাকার এমনই এক পশুচিকিৎসক ভাস্কর চন্দ্র দাস। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি গরু-ছাগলসহ অন্যান্য পোষা প্রাণিকে রীতিমতো অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তার অপচিকিৎসায় এরইমধ্যে মারা গেছে কয়েকটি গরু।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম নামে এক খামারি। তিনি বলেন, আমার একটি গরু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ওই গরুটিকে স্থানীয় পশুচিকিৎসক ভাস্করের কাছে নিই। তার কাছে নিলে তিনি গরুটিকে চিকিৎসা দেন। ওই চিকিৎসার পর গরুটি আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এরপর আমি গরুটি নিয়ে যাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। আগেই গরুটিকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ায় ওই গরুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

আব্দুর রহিম আরো বলেন, আমি আগে জানতাম না বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন-২০১৯ অনুসারে ডিভিএম ডিগ্রি ছাড়া কেউ গবাদিপ্রাণির চিকিৎসা করতে পারবেন না। অথচ ভাস্কর বাবু নিজেকে পশুচিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ খামারিদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তার এই প্রতারণার শিকার আমিও। ভাস্কর বাবুর অপচিকিৎসায় আমার অন্তত ৬০ হাজার টাকা দামের গরুটি মারা যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার মাধ্যমে এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি গরু মারারও অভিযোগ রয়েছে। এই কথিত পশুচিকিৎসক ভাস্করের কাছে অবলা প্রাণিদের জীবনের যেন কোনো মূল্য নেই। আমি তার শাস্তি কামনা করছি।

 

অভিযোগের ব্যাপারে ভাস্কর চন্দ্র দাস জানান, পশুচিকিৎসার জন্য আমার প্রশিক্ষণ রয়েছে। এছাড়া আমি ওই ব্যক্তির গরুটিকে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দিয়েছি। তিনি এরপরও অন্য কোথাও গরুর চিকিৎসা করানোর কারণে সেটি মারা গেছে।
কেবল এই ভাস্কর চন্দ্র দাসই নন, লালমোহন উপজেলার আনাচে-কানাচে এভাবেই দিনের পর দিন অবলা প্রাণিদের অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন কথিত পশুচিকিৎসকরা। গ্রামের পর গ্রাম দাবড়িয়ে বেড়ালেও এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। এসব কথিত পশুচিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি স্থানীয় পোষা প্রাণির মালিকদের।

 

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, গ্রাম-গঞ্জে স্থানীয় যেসব পশুচিকিৎসক রয়েছেন তারা কেবল প্রাণিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন। তাও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আর কেউ যদি তা না করেন তাহলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ আমরা চাই না অপচিকিৎসার শিকার হয়ে কোনো খামারি বা গবাদিপশুর মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

অবলা প্রাণিদের জীবন নিয়ে খেলেন কথিত পশুচিকিৎসকরা

আপডেট : ০৭:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে রয়েছে কথিত পশুচিকিৎসক। নামমাত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে অবলা প্রাণিদের জীবন নিয়ে রীতিমতো খেলা করেন তারা। এসব কথিত পশুচিকিৎসকদের অপচিকিৎসায় প্রাণ হারায় বিভিন্ন প্রজাতির পোষা প্রাণি। ভোলার লালমোহন উপজেলারও বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন এসব কথিত পশুচিকিৎসকরা। উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ এলাকার এমনই এক পশুচিকিৎসক ভাস্কর চন্দ্র দাস। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি গরু-ছাগলসহ অন্যান্য পোষা প্রাণিকে রীতিমতো অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তার অপচিকিৎসায় এরইমধ্যে মারা গেছে কয়েকটি গরু।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম নামে এক খামারি। তিনি বলেন, আমার একটি গরু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ওই গরুটিকে স্থানীয় পশুচিকিৎসক ভাস্করের কাছে নিই। তার কাছে নিলে তিনি গরুটিকে চিকিৎসা দেন। ওই চিকিৎসার পর গরুটি আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এরপর আমি গরুটি নিয়ে যাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। আগেই গরুটিকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ায় ওই গরুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

আব্দুর রহিম আরো বলেন, আমি আগে জানতাম না বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন-২০১৯ অনুসারে ডিভিএম ডিগ্রি ছাড়া কেউ গবাদিপ্রাণির চিকিৎসা করতে পারবেন না। অথচ ভাস্কর বাবু নিজেকে পশুচিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ খামারিদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তার এই প্রতারণার শিকার আমিও। ভাস্কর বাবুর অপচিকিৎসায় আমার অন্তত ৬০ হাজার টাকা দামের গরুটি মারা যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার মাধ্যমে এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি গরু মারারও অভিযোগ রয়েছে। এই কথিত পশুচিকিৎসক ভাস্করের কাছে অবলা প্রাণিদের জীবনের যেন কোনো মূল্য নেই। আমি তার শাস্তি কামনা করছি।

 

অভিযোগের ব্যাপারে ভাস্কর চন্দ্র দাস জানান, পশুচিকিৎসার জন্য আমার প্রশিক্ষণ রয়েছে। এছাড়া আমি ওই ব্যক্তির গরুটিকে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দিয়েছি। তিনি এরপরও অন্য কোথাও গরুর চিকিৎসা করানোর কারণে সেটি মারা গেছে।
কেবল এই ভাস্কর চন্দ্র দাসই নন, লালমোহন উপজেলার আনাচে-কানাচে এভাবেই দিনের পর দিন অবলা প্রাণিদের অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন কথিত পশুচিকিৎসকরা। গ্রামের পর গ্রাম দাবড়িয়ে বেড়ালেও এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। এসব কথিত পশুচিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি স্থানীয় পোষা প্রাণির মালিকদের।

 

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, গ্রাম-গঞ্জে স্থানীয় যেসব পশুচিকিৎসক রয়েছেন তারা কেবল প্রাণিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন। তাও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আর কেউ যদি তা না করেন তাহলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ আমরা চাই না অপচিকিৎসার শিকার হয়ে কোনো খামারি বা গবাদিপশুর মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।