ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার লালমোহনে শুদ্ধ বানান ও শুদ্ধ উচ্চারণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

৯ মাস পর এসে জনরোষে থেকে বাঁচতে দ্রুত স্কুল ত্যাগ করলেন প্রধান শিক্ষক হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৮:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ১৩২ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৯ মাস পর এসে জনরোষে থেকে বাঁচতে দ্রুত স্কুল ত্যাগ করলেন প্রধান শিক্ষক হেলাল
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা) :
মো. হেলাল উদ্দিন। লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক অবস্থায় ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পর বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে হঠাৎ তিনি স্কুলে উপস্থিত হন। তিনি স্কুলে আসছেন এই খবর পেয়ে তার কাছ থেকে টাকা পাবে এমন লোকজন স্কুলে গিয়ে হাজির হন। স্কুলের বাহিরে লোকজন জড়ো হচ্ছে এই খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন দ্রুত স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্কুল গেটের সামনে লোকজন তাকে আটকিয়ে তাদের পাওনা ফেরত দিতে বলেন।
এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সাথে পাওনাদারদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে একজন এগিয়ে আসেন। তিনি উত্তোজিত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং হেলাল উদ্দিনকে একটি অটো রিক্সায় উঠিয়ে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে দেন।
জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই। এই সুবাধে ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন। প্রধান শিক্ষক হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি, বাজারের যায়গা, পুকুর বিক্রি করা শুরু করেন। এই বিক্রি বাবদ প্রায় ৩৪৮ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেন। কিছু লোককে জমি, বাজারের ঘর বুঝিয়ে দিলেও অনেকের টাকা তিনি আত্নসাৎ করেন। চাচাতো ভাই এমপি হওয়ার সুবাধে তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না এবং তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলে অনেক শিক্ষককে অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। পরে সারা দেশের ন্যায় লালমোহন উপজেলার এই স্কুলটি সরকারি করণ করা হয়। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি জনরোশের ভয়ে স্কুলে আসেসনি এবং লালমোহনেও তাকে দেখা যায়নি। প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন অনিয়ম ও স্কুলে না আসায় তাকে অপসারন করতে ছাত্র জনতা একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের মোবাইলে কল করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যস্ত এবং বুজিনা বলে কেটে দেন। এরপর একাধিক বার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের রিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এবং প্রতিবেদন পেলে ওনার লাইন অথরিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

৯ মাস পর এসে জনরোষে থেকে বাঁচতে দ্রুত স্কুল ত্যাগ করলেন প্রধান শিক্ষক হেলাল

আপডেট : ০৮:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

৯ মাস পর এসে জনরোষে থেকে বাঁচতে দ্রুত স্কুল ত্যাগ করলেন প্রধান শিক্ষক হেলাল
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা) :
মো. হেলাল উদ্দিন। লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক অবস্থায় ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পর বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে হঠাৎ তিনি স্কুলে উপস্থিত হন। তিনি স্কুলে আসছেন এই খবর পেয়ে তার কাছ থেকে টাকা পাবে এমন লোকজন স্কুলে গিয়ে হাজির হন। স্কুলের বাহিরে লোকজন জড়ো হচ্ছে এই খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন দ্রুত স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্কুল গেটের সামনে লোকজন তাকে আটকিয়ে তাদের পাওনা ফেরত দিতে বলেন।
এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সাথে পাওনাদারদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে একজন এগিয়ে আসেন। তিনি উত্তোজিত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং হেলাল উদ্দিনকে একটি অটো রিক্সায় উঠিয়ে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে দেন।
জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই। এই সুবাধে ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন। প্রধান শিক্ষক হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি, বাজারের যায়গা, পুকুর বিক্রি করা শুরু করেন। এই বিক্রি বাবদ প্রায় ৩৪৮ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেন। কিছু লোককে জমি, বাজারের ঘর বুঝিয়ে দিলেও অনেকের টাকা তিনি আত্নসাৎ করেন। চাচাতো ভাই এমপি হওয়ার সুবাধে তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না এবং তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলে অনেক শিক্ষককে অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। পরে সারা দেশের ন্যায় লালমোহন উপজেলার এই স্কুলটি সরকারি করণ করা হয়। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি জনরোশের ভয়ে স্কুলে আসেসনি এবং লালমোহনেও তাকে দেখা যায়নি। প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন অনিয়ম ও স্কুলে না আসায় তাকে অপসারন করতে ছাত্র জনতা একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের মোবাইলে কল করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যস্ত এবং বুজিনা বলে কেটে দেন। এরপর একাধিক বার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের রিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এবং প্রতিবেদন পেলে ওনার লাইন অথরিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।