ভোলায় ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতেও থেমে নেই মিডওয়াইফদের মাতৃস্বাস্থ্য সেবা
- আপডেট : ০৯:১১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতেও ভোলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছেন প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফরা। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর সহায়তায় এবং পার্টনার্স ইন হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিএইচডি) কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাশন, মনপুরাসহ ভোলা জেলার ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ছুটির মধ্যেও গর্ভবতী মা ও নারীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চরফ্যাশন উপজেলার চরকলমী, রসুলপুর ও চরকুকরী-মুকরী, মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া, লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া, দৌলতখান উপজেলার চরপাতা এবং ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ও সপ্তাহের ৭ দিন (২৪/৭) মাতৃস্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব সেবা (ANC), নিরাপদ প্রসবসেবা, প্রসবোত্তর সেবা (PNC), পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং নারীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ (VIA) সেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।
ঈদুল আজহার ছুটিকালীন সময়ে উল্লিখিত আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মোট *৪৫টি নরমাল ডেলিভারি, **১৪৩ জন গর্ভবতী নারী প্রসবপূর্ব সেবা (ANC)* এবং *৯৯ জন মা প্রসবোত্তর সেবা (PNC)* গ্রহণ করেছেন। ছুটির মধ্যেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় জরুরি মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের দোরগোড়ায় মানসম্মত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মিডওয়াইফরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেবা কার্যক্রম সচল থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা জানান, ছুটির সময়েও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হওয়ায় তারা উপকৃত হচ্ছেন। এর ফলে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাচ্ছে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত ও জরুরি মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ নবজাতক নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফদের এই নিরবচ্ছিন্ন সেবা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
নিউজটি শেয়ার করুন










