ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
আপনারা আমার সন্তানকে বাঁচান’ শিশু মুজাহিদুল ইসলামের মা-বাবার আকুতি মানবিক সাংবাদিকতায় “হাফেজ্জী সেবা পদক-২০২৬” পুরস্কার পেলেন মোঃ মোশাররফ হোসাইন রাজু বাড়ির দরজা পাশবর্তী পরিবারকে চলাচল করতে দিয়ে বিপাকে বাড়ির মালিক দক্ষিণ আইচায় স্বেচ্ছাশ্রমে দুই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার, স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে লালমোহনে অটোরিকশা-পিকআপ সংঘর্ষে আহত ৬ লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়ম, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তোলপাড় হলেও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ শ্রীনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আর নেই দ্বিতীয় দিনের মতো এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করলো ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা লালমোহনে স্বপ্ন সুপার শপে অগ্নিকান্ড! ১০ লাখ টাকার ক্ষতি  লালমোহনে বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত

অধ্যক্ষ পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় কর্মচারিদের বধ্যতামূলক চাঁদা চেয়ে প্রধান সহকারীর নোটিশ

নাজমুল খান সুজন
  • আপডেট : ০৮:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অধ্যক্ষ পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক চাঁদা চেয়ে নোটিশ দিয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রধান সহকারী মামুন। জানা যায় ১২ জুলাই ২০২৪ বেইলি রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহসীন কবিরের ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনাকে সামনে রেখে অত্র কলেজের প্রধান সহকারীর সাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে কলেজের সকল কর্মচারীদের আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ৫০০ টাকা শুভেচ্ছা উপহার চেয়ে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। এবং টাকাটি অত্র কলেজের ক্যাশ সরকার জনাব মোঃ আবুল হোসেনের নিকট জমা দিতে অনুরোধ করা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এতদ্বারা অত্র কলেজের সকল কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১২ জুলাই ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যা ৭.০০ টায় নগরীর বেইলী রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবে মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়ের পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত আয়োজনে আপনি নিমন্ত্রিত। এ উপলক্ষ্যে সকল কর্মচারীকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০/-(পাঁচশত টাকা মাত্র) অত্র কলেজের ক্যাশ সরকার জনাব মোঃ আবুল হোসেনের নিকট আগামী ০৫/০৭/২০২৪ তারিখ বৃহস্পতিবারের মধ্যে জমাদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এনিয়ে শুরু হয় তুমুল তর্ক-বিতর্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোহরাওয়ার্দী কলেজ পরিবার গ্রুপে পোস্ট দিয়ে বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয়ের ছেলের মুসলমানীতে সাধারন কর্মচারী থেকে বাধ্যতামূলক ৫০০ টাকা নিবেন।আর কত ছোট লোকি কাজ করবেন।একজন স্টাফ ৭০০০/৮০০০ টাকা বেতন পায় তার থেকে আপনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাবদ টাকা নেন।যেদিন থেকে আপনি কলেজে যোগদান করছেন সেদিন থেকে কলেজের রেজাল্ট ভাল না।মহসিন স্যার পারলে গরীব স্টাফদের মুক্তি দেন না হয় পদত্যাগ করেন।

এবিষয়ে কলেজের একজন কর্মচারী নিজেকে নিরীহ বলে দাবি করেছেন! বলার সময় তার চোখে মুখে ছিল অসহায়ত্বের ছাপ। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ভাই উনারা বলেছেন টাকা না দিলে নাকি আমাদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে। আমরা কি করবো আমাদের করার কিছু নেই!

আরেক কর্মচারীকে ফোন দিলি বিষয়টি তিনি এরিয়ে যান এবং বলেন এবিষয়ে প্রধান সহকারীর সাথে সরাসরি কথা বলতে।

আরেক কর্মচারী বলেন নোটিশে বাধ্যতামূকল কথাটি লেখা ঠিক হয়নি। কলেজের অধ্যক্ষ স্যারের ছেলে বিয়ে আমাদের দাওয়াত করেছে আমরা তো এমনিই খুশি। এখানে ৫০০ টাকা কোনো বিষয় না।

উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অফিস সহকারী মামুন বলেন, প্রতিবেদকে বলে আপনি কি আমদের স্টুডেন্ট, তার বলেন আসেন কলেজ আসেন কথা বলি।

তিনি আরো বলেন আসলে এটা তো সমাজিক প্রথা, সাধারণ কর্পোরেটে এভাবে হয়।

প্রতিবেদক ব্যাধ্যতামূলক ৫০০টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আবারো বলেন, আসেন কলেজে সামনাসামনি আমি টেলিফোনে এতো কথা বলতে রাজি না বলে ফোন কেটে দেয়। তারপর তাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি।

এবিষয়ে অধ্যক্ষ মোহসীন কবির বলেন, আমি মাত্রই বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং সাথে সাথে প্রধান সহকারীকে জিজ্ঞেস করেছি যে কেনো এমন নোটিশ দেওয়া হলো? উত্তরে প্রধান সহকারী বলেন আমরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই এমন করে থাকি যারা পারে তারা দেয়! বাধ্যতামূলক দিতে হবে এমন লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, এটা হয়তো তার ভুল হয়েছে তবে আগামীকাল অফিসে গিয়ে আমি তাকে শোকজ করবো এবং জানতে চাইবো কেনো সে এমনটি করেছে! সে যদি এবিষয়ে কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করে তাহলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছেলের বিয়ের বিষয়ে অধ্যক্ষ সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন আপনার কি মনে হয় আমি ৫০০ টাকার জন্য আমার ছেলের বিয়ের আয়োজন করেছি অবশ্যই না। উল্টো সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিয়েতে আশার সময় কেউ যাতে কোনো উপঢৌকন না নিয়ে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

অধ্যক্ষ পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় কর্মচারিদের বধ্যতামূলক চাঁদা চেয়ে প্রধান সহকারীর নোটিশ

আপডেট : ০৮:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

অধ্যক্ষ পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক চাঁদা চেয়ে নোটিশ দিয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রধান সহকারী মামুন। জানা যায় ১২ জুলাই ২০২৪ বেইলি রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহসীন কবিরের ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনাকে সামনে রেখে অত্র কলেজের প্রধান সহকারীর সাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে কলেজের সকল কর্মচারীদের আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ৫০০ টাকা শুভেচ্ছা উপহার চেয়ে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। এবং টাকাটি অত্র কলেজের ক্যাশ সরকার জনাব মোঃ আবুল হোসেনের নিকট জমা দিতে অনুরোধ করা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এতদ্বারা অত্র কলেজের সকল কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১২ জুলাই ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যা ৭.০০ টায় নগরীর বেইলী রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবে মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়ের পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত আয়োজনে আপনি নিমন্ত্রিত। এ উপলক্ষ্যে সকল কর্মচারীকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০/-(পাঁচশত টাকা মাত্র) অত্র কলেজের ক্যাশ সরকার জনাব মোঃ আবুল হোসেনের নিকট আগামী ০৫/০৭/২০২৪ তারিখ বৃহস্পতিবারের মধ্যে জমাদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এনিয়ে শুরু হয় তুমুল তর্ক-বিতর্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোহরাওয়ার্দী কলেজ পরিবার গ্রুপে পোস্ট দিয়ে বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয়ের ছেলের মুসলমানীতে সাধারন কর্মচারী থেকে বাধ্যতামূলক ৫০০ টাকা নিবেন।আর কত ছোট লোকি কাজ করবেন।একজন স্টাফ ৭০০০/৮০০০ টাকা বেতন পায় তার থেকে আপনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাবদ টাকা নেন।যেদিন থেকে আপনি কলেজে যোগদান করছেন সেদিন থেকে কলেজের রেজাল্ট ভাল না।মহসিন স্যার পারলে গরীব স্টাফদের মুক্তি দেন না হয় পদত্যাগ করেন।

এবিষয়ে কলেজের একজন কর্মচারী নিজেকে নিরীহ বলে দাবি করেছেন! বলার সময় তার চোখে মুখে ছিল অসহায়ত্বের ছাপ। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ভাই উনারা বলেছেন টাকা না দিলে নাকি আমাদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে। আমরা কি করবো আমাদের করার কিছু নেই!

আরেক কর্মচারীকে ফোন দিলি বিষয়টি তিনি এরিয়ে যান এবং বলেন এবিষয়ে প্রধান সহকারীর সাথে সরাসরি কথা বলতে।

আরেক কর্মচারী বলেন নোটিশে বাধ্যতামূকল কথাটি লেখা ঠিক হয়নি। কলেজের অধ্যক্ষ স্যারের ছেলে বিয়ে আমাদের দাওয়াত করেছে আমরা তো এমনিই খুশি। এখানে ৫০০ টাকা কোনো বিষয় না।

উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অফিস সহকারী মামুন বলেন, প্রতিবেদকে বলে আপনি কি আমদের স্টুডেন্ট, তার বলেন আসেন কলেজ আসেন কথা বলি।

তিনি আরো বলেন আসলে এটা তো সমাজিক প্রথা, সাধারণ কর্পোরেটে এভাবে হয়।

প্রতিবেদক ব্যাধ্যতামূলক ৫০০টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আবারো বলেন, আসেন কলেজে সামনাসামনি আমি টেলিফোনে এতো কথা বলতে রাজি না বলে ফোন কেটে দেয়। তারপর তাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি।

এবিষয়ে অধ্যক্ষ মোহসীন কবির বলেন, আমি মাত্রই বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং সাথে সাথে প্রধান সহকারীকে জিজ্ঞেস করেছি যে কেনো এমন নোটিশ দেওয়া হলো? উত্তরে প্রধান সহকারী বলেন আমরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই এমন করে থাকি যারা পারে তারা দেয়! বাধ্যতামূলক দিতে হবে এমন লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, এটা হয়তো তার ভুল হয়েছে তবে আগামীকাল অফিসে গিয়ে আমি তাকে শোকজ করবো এবং জানতে চাইবো কেনো সে এমনটি করেছে! সে যদি এবিষয়ে কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করে তাহলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছেলের বিয়ের বিষয়ে অধ্যক্ষ সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন আপনার কি মনে হয় আমি ৫০০ টাকার জন্য আমার ছেলের বিয়ের আয়োজন করেছি অবশ্যই না। উল্টো সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিয়েতে আশার সময় কেউ যাতে কোনো উপঢৌকন না নিয়ে আসে।