ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার লালমোহনে শুদ্ধ বানান ও শুদ্ধ উচ্চারণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

অবরোধের ৩৬ দিন পার হলেও চাল পায়নি লালমোহনের জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৬:২১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
অবরোধের ৩৬ দিন পার হলেও ভোলার লালমোহনের ৯টি ইউনিয়নের জেলেরা প্রথম কিস্তির মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পায়নি। ঈদ উল ফিতরের আগে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

 

 

উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে আংশিক চাল বিতরণ শুরু হলেও সমন্বয়হীনতার কারণে পুরো চাল বিতরণ করা হয়নি। মার্চ ও এপ্রিল দুইমাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার এই দুইমাস সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রিও আইনত দণ্ডনীয়। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও জেলেদের জন্য সময়টি কঠিন মূহুর্ত।
জেলেরা এই দুই মাস কর্মহীন হয়ে পড়ে। এসময় জেলেদের জন্য সরকার ৪০ কেজি করে ৪ বার ১৬০ কেজি চাল দিয়ে থাকেন। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। জেলেদের দাবী তালিকাভুক্ত হয়েও প্রতিবছর অর্ধেকের বেশি সংখ্যক জেলে চাল পান না। তালিকার অর্ধেকের চেয়ে কম সংখ্যক জেলেদের জন্য সরকার চাল বরাদ্দ করে। লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজারেরও বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে ১০ হাজার ১০০ জনের জন্য।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ বরাদ্দ কম হওয়ার ব্যাপারে জানান, এটি সরকারি সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। তবে আমরা প্রতিবছরই বরাদ্দ বেশি করার জন্য প্রস্তাব করি ।

 

এদিকে প্রথম ডিওতে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই চাল বিতরণেও বরাবরই অসচ্ছতার অভিযোগ থাকে। তবুও ঈদের আগে চাল পাবেন এমনটাই আশা করেছিলেন জেলেরা। কিন্তু মার্চ মাস শেষ হয়ে গেলেও দু’টি ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে জেলেদের হাতে এখনো চাল পৌঁছেনি। নির্ধারিত সময়ে চাল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।

উপজেলার মেঘনা পাড়ের জেলে মোবারক মাঝি, মালেক মাঝি, মো. মোছলেম মাঝিসহ কয়েকজন মাঝি জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। এই সময় সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা আমাদের । সঠিক সময়ে চাল না পাওয়ার কারণে আমাদের ঋণ আরো বাড়ছে এবং অনেক কস্টের মধ্যে দিন কাটছে। এদিকে এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে হয়।

সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তার চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দুই/একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যানরা।

বদরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ জানান, তালিকা প্রনয়নে দেরী হওয়ায় এতোদিন চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, তবে আগামি সপ্তাহের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, মৎস্য অফিস থেকে তালিকা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ইউনিয়নের চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য বলেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

অবরোধের ৩৬ দিন পার হলেও চাল পায়নি লালমোহনের জেলেরা

আপডেট : ০৬:২১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
অবরোধের ৩৬ দিন পার হলেও ভোলার লালমোহনের ৯টি ইউনিয়নের জেলেরা প্রথম কিস্তির মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পায়নি। ঈদ উল ফিতরের আগে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

 

 

উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে আংশিক চাল বিতরণ শুরু হলেও সমন্বয়হীনতার কারণে পুরো চাল বিতরণ করা হয়নি। মার্চ ও এপ্রিল দুইমাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার এই দুইমাস সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রিও আইনত দণ্ডনীয়। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও জেলেদের জন্য সময়টি কঠিন মূহুর্ত।
জেলেরা এই দুই মাস কর্মহীন হয়ে পড়ে। এসময় জেলেদের জন্য সরকার ৪০ কেজি করে ৪ বার ১৬০ কেজি চাল দিয়ে থাকেন। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। জেলেদের দাবী তালিকাভুক্ত হয়েও প্রতিবছর অর্ধেকের বেশি সংখ্যক জেলে চাল পান না। তালিকার অর্ধেকের চেয়ে কম সংখ্যক জেলেদের জন্য সরকার চাল বরাদ্দ করে। লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজারেরও বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে ১০ হাজার ১০০ জনের জন্য।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ বরাদ্দ কম হওয়ার ব্যাপারে জানান, এটি সরকারি সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। তবে আমরা প্রতিবছরই বরাদ্দ বেশি করার জন্য প্রস্তাব করি ।

 

এদিকে প্রথম ডিওতে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই চাল বিতরণেও বরাবরই অসচ্ছতার অভিযোগ থাকে। তবুও ঈদের আগে চাল পাবেন এমনটাই আশা করেছিলেন জেলেরা। কিন্তু মার্চ মাস শেষ হয়ে গেলেও দু’টি ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে জেলেদের হাতে এখনো চাল পৌঁছেনি। নির্ধারিত সময়ে চাল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।

উপজেলার মেঘনা পাড়ের জেলে মোবারক মাঝি, মালেক মাঝি, মো. মোছলেম মাঝিসহ কয়েকজন মাঝি জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। এই সময় সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা আমাদের । সঠিক সময়ে চাল না পাওয়ার কারণে আমাদের ঋণ আরো বাড়ছে এবং অনেক কস্টের মধ্যে দিন কাটছে। এদিকে এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে হয়।

সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তার চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দুই/একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যানরা।

বদরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ জানান, তালিকা প্রনয়নে দেরী হওয়ায় এতোদিন চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, তবে আগামি সপ্তাহের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, মৎস্য অফিস থেকে তালিকা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ইউনিয়নের চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য বলেছি।