ব্রিজ তো নয় যেন মরণ ফাঁদ ! ১৭ বছর ধরে এই ফাঁদ দিয়ে পার হতে হচ্ছে চার গ্রামের মানুষদের
- আপডেট : ০৮:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা) :
১২ মিটার দৈর্ঘ্যে একটি গার্ডার ব্রিজ, অথচ সেই ব্রিজ দিয়েই নেই চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা। ব্রিজের ভাঙা স্লাবের ওপর সুপারি গাছ ফেলে তৈরি করা হয়েছে সাঁকো, সেই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পার হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ। গত ১৬ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোলার লালমোহন উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকার নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপরের ওই ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। ২০০৯ সালে যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয় ওই গার্ডার ব্রিজটি। তবে নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১০ সালের দিকে ব্রিজটির পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশের স্লাব ধসে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরেও ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটির ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানে সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো এবং পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে মই তৈরি করে কোনোমতে পারাপার হচ্ছেন তারা। বর্তমানে ব্রিজটির ওপর দিয়ে কেউ হাঁটলেও থরথর করে কাঁপতে থাকে। সামান্য অসতর্ক হলেই খালে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে ব্রিজটি থেকে খালে পড়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অনেকে আহত হয়েছেন। এ ব্রিজটি দিয়ে পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শান্ত, পঞ্চম শ্রেণির আব্দুল্লাহ ও চতুর্থ শ্রেণির ইব্রাহিম জানায়, ব্রিজটি দিয়ে পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। মনে হয়, এই বুঝি ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যাবে। তাদের মতো এলাকার সব শিক্ষার্থীকেই প্রতিদিন চরম আতঙ্ক নিয়ে পার হতে হয় ব্রিজটি।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মাতাব্বর, শাহে আলম ও শামছুল হক সিকদার বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মাথায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানের অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। পশ্চিম পাশের অংশটি এখন রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচু। ফলে যাতায়াতের সুবিধার্থে সুপারি গাছ ফেলে কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিজটিতে মানুষ উঠলে সেটি কাঁপতে থাকে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ এই ব্রিজ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, ব্রিজটি দিয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের শতশত মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ পথে অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। এতে রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের জন্য ভোলা-৩ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীরবিক্রম) সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ওই ব্রিজটিসহ উপজেলায় যত জরাজীর্ণ ব্রিজ রয়েছে সেগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ব্রিজটিসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজগুলোর সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।









