ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন আটক লালমোহনে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত যুবদল নেতাকে আর্থিক সহায়তা দিলেন স্পিকার অব. হাফিজ উদ্দিন  লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার

দখলদারদের সুবিধা দিতে লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধের অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট : ০৬:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার লালমোহনে খাল খননে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেভাবে খাল কাটার কথা সেভাবে খাল না কেটে কোনো রকমে দায়সারা ভাবে কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালী। ও দখলদারদের সুবিধা দিতে লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কোথাও নিয়ম অনুযায়ী খাল কাটা হলেও কোথাও প্রভাবশালীদের কারনে ঠিকমতো খাল কাটছেন না ঠিকাদার। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে লালমোহন পৌরসভার প্রায় ১.৫ কিলোমিটারে। লালমোহন হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খালটি কাটা শুরু করে এখন বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারেরা খাল দখল করে ঘর নির্মান করার কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে। একটি চক্র এইসমস্ত দখলকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা উত্তোলন করে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালকাটা পাড়ের বাসিন্ধারা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের আগে আমাদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে খাল খনন করেছে। কিন্তু পৌরসভার ভিতরে হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাল নিয়ম অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। এখানে খাল কাটা শুরু হলে দখলকারীরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু করে। ভেকু দিয়ে কোনো রকম নিচ দিয়ে কাটা শুরু করে হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই এই খাল কাটা বন্ধ করে দিয়ে ভেকু মেশিন উঠিয়ে নিয়ে যান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দখলকারীরা তাদের ঘরবাড়ী যেটুকু ভেঙ্গেছেন এখন আর ভাঙছেন না। গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী একটি মহল খাল পারের দখলকৃত ঘরবাড়ি না ভাঙার ব্যাপারে তদবির ও দখলদারদের সাথে অবৈধ লেনদেন করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আগে যে যেটুকু ভেঙেছেন এখন আর নতুন করে দখলকৃত খালের উপর ঘরবাড়ি ভাঙছেন না। অনেকে অর্ধেক ভেঙে এখন অজ্ঞাত কারণে ভাঙা বন্দ রেখেছন। কেহ কেহ ভাঙা যায়গায় রাতের আধারে পূন:রায় মেরামত করে নিচ্ছেন।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগ (বাপাউবো) সূত্রে জানা যায়, লালমোহনে মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। যার শুরু ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রাম থেকে লালমোহন লঞ্চঘাট পর্যন্ত। খাল অনুযায়ী মুখে কোথাও ৬০ ফিট, কোথাও ৩৫ ফিট কাটার কথা। তবে লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত মুখে ৬০ ফিট কাটার কথা। খাল খননের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল। ইসলাম। মোট বরাদ্ধ ১৮ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৬০ টাকা। খনন শুরু জানুয়ারি ২০২৪ ইং শেষ এপ্রিল ২০২৫ ইং।
লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল কাটা শুরু করে বন্ধ রাখার বিষয়ে কর্তব্যরত এসও প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী খাল খনন করছি। হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খনন শুরু হলে খাল পারের বাসিন্ধারা তাদের রেকর্ডিয় জমি দাবি করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য এখানে খনন বন্ধ রাখতে। তিনি কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দিবেন। তাই চএখানের কাজ বন্ধ রেখে অন্য যায়গায় কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে তিনি জানান মোট কাজের ৭০% সমাপ্ত হয়েছে।
পৌরসভার কাজ বন্ধের ব্যাপারে দায়িত্বরত ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের ম্যানেজার কার্তিক বাবু বলেন, মাটি নরমের কারণে উক্ত যায়গার খাল খনন বন্ধ রয়েছে। আমরা অন্য যায়গায় কাজ করছি। এখানকার মাটি শুকালে আবার কাটা হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ এ ব্যাপারে বলেন, খাল খনন বন্ধের বিষয়ে আমাকে অফিসিয়াল কোন কিছু জানানো হয়নি। আমি খাল খনন বন্ধের বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনাই। খাল কাটার বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি। দ্রুত বর্ষার আগেই খান খনন করা উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভার উক্ত এলাকায় রাফ কেটে গেছে এরপর ফাইনাল কাটা হবে। অবৈধ কোন স্থপনা থাকলে উচ্ছেদ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

দখলদারদের সুবিধা দিতে লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধের অভিযোগ

আপডেট : ০৬:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

ভোলার লালমোহনে খাল খননে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেভাবে খাল কাটার কথা সেভাবে খাল না কেটে কোনো রকমে দায়সারা ভাবে কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালী। ও দখলদারদের সুবিধা দিতে লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কোথাও নিয়ম অনুযায়ী খাল কাটা হলেও কোথাও প্রভাবশালীদের কারনে ঠিকমতো খাল কাটছেন না ঠিকাদার। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে লালমোহন পৌরসভার প্রায় ১.৫ কিলোমিটারে। লালমোহন হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খালটি কাটা শুরু করে এখন বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারেরা খাল দখল করে ঘর নির্মান করার কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে। একটি চক্র এইসমস্ত দখলকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা উত্তোলন করে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালকাটা পাড়ের বাসিন্ধারা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের আগে আমাদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে খাল খনন করেছে। কিন্তু পৌরসভার ভিতরে হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাল নিয়ম অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। এখানে খাল কাটা শুরু হলে দখলকারীরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু করে। ভেকু দিয়ে কোনো রকম নিচ দিয়ে কাটা শুরু করে হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই এই খাল কাটা বন্ধ করে দিয়ে ভেকু মেশিন উঠিয়ে নিয়ে যান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দখলকারীরা তাদের ঘরবাড়ী যেটুকু ভেঙ্গেছেন এখন আর ভাঙছেন না। গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী একটি মহল খাল পারের দখলকৃত ঘরবাড়ি না ভাঙার ব্যাপারে তদবির ও দখলদারদের সাথে অবৈধ লেনদেন করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আগে যে যেটুকু ভেঙেছেন এখন আর নতুন করে দখলকৃত খালের উপর ঘরবাড়ি ভাঙছেন না। অনেকে অর্ধেক ভেঙে এখন অজ্ঞাত কারণে ভাঙা বন্দ রেখেছন। কেহ কেহ ভাঙা যায়গায় রাতের আধারে পূন:রায় মেরামত করে নিচ্ছেন।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগ (বাপাউবো) সূত্রে জানা যায়, লালমোহনে মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। যার শুরু ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রাম থেকে লালমোহন লঞ্চঘাট পর্যন্ত। খাল অনুযায়ী মুখে কোথাও ৬০ ফিট, কোথাও ৩৫ ফিট কাটার কথা। তবে লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত মুখে ৬০ ফিট কাটার কথা। খাল খননের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল। ইসলাম। মোট বরাদ্ধ ১৮ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৬০ টাকা। খনন শুরু জানুয়ারি ২০২৪ ইং শেষ এপ্রিল ২০২৫ ইং।
লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল কাটা শুরু করে বন্ধ রাখার বিষয়ে কর্তব্যরত এসও প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী খাল খনন করছি। হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খনন শুরু হলে খাল পারের বাসিন্ধারা তাদের রেকর্ডিয় জমি দাবি করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য এখানে খনন বন্ধ রাখতে। তিনি কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দিবেন। তাই চএখানের কাজ বন্ধ রেখে অন্য যায়গায় কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে তিনি জানান মোট কাজের ৭০% সমাপ্ত হয়েছে।
পৌরসভার কাজ বন্ধের ব্যাপারে দায়িত্বরত ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের ম্যানেজার কার্তিক বাবু বলেন, মাটি নরমের কারণে উক্ত যায়গার খাল খনন বন্ধ রয়েছে। আমরা অন্য যায়গায় কাজ করছি। এখানকার মাটি শুকালে আবার কাটা হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ এ ব্যাপারে বলেন, খাল খনন বন্ধের বিষয়ে আমাকে অফিসিয়াল কোন কিছু জানানো হয়নি। আমি খাল খনন বন্ধের বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনাই। খাল কাটার বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি। দ্রুত বর্ষার আগেই খান খনন করা উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভার উক্ত এলাকায় রাফ কেটে গেছে এরপর ফাইনাল কাটা হবে। অবৈধ কোন স্থপনা থাকলে উচ্ছেদ করা হবে।