ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বই যখন পথে নামে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ১২:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৪৯ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুরাইয়া তাসনিম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি

একসময় বই পড়তে হলে লাইব্রেরিতে যেতে হতো। নির্দিষ্ট একটি জায়গায় গিয়ে পছন্দের বই খুঁজে নেওয়া, কিছু সময় বইয়ের সঙ্গে কাটানো—এটাই ছিল পরিচিত চিত্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রেও এসেছে পরিবর্তন। এখন বইকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি।

 

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি মূলত বইকে এক জায়গায় আটকে না রেখে পাঠকের কাছে নিয়ে যাওয়ার একটি উদ্যোগ। একটি গাড়ির মধ্যেই সাজানো থাকে বিভিন্ন ধরনের বই। নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে এটি থামে, আর সেখান থেকেই পাঠকেরা বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

 

ব্যস্ত জীবনে অনেকেরই নিয়মিত লাইব্রেরিতে যাওয়ার সুযোগ হয় না। পড়াশোনা, কাজ কিংবা নানা ব্যস্ততার কারণে বই পড়ার ইচ্ছা থাকলেও সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় বই যদি নিজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তাহলে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগও কিছুটা সহজ হয়।

 

বর্তমানে তরুণদের অবসর সময়ের বড় একটি অংশ কাটে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এর মধ্যেও বইকে মানুষের সামনে নিয়ে আসার এমন উদ্যোগ নতুন করে পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে পারে। হয়তো হঠাৎ কোনো একটি বইয়ের মলাট চোখে পড়বে, আর সেখান থেকেই শুরু হবে পড়ার নতুন অভ্যাস।

 

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বিশেষত্ব শুধু এর চলমান ব্যবস্থায় নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি সহজ চিন্তা—বইকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া। কারণ পাঠাভ্যাস তৈরি করতে শুধু বই থাকা যথেষ্ট নয়, বইয়ের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগও তৈরি করতে হয়।

 

একটি চলমান গাড়ির ভেতর সাজানো বই হয়তো বড় কোনো লাইব্রেরির বিকল্প নয়। কিন্তু বই পড়ার সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কম নয়। বিশেষ করে যারা সহজে লাইব্রেরিতে যেতে পারেন না, তাদের কাছে এটি হতে পারে বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন মাধ্যম।

 

প্রযুক্তির এই সময়ে বইয়ের জায়গা হয়তো বদলেছে, কিন্তু বইয়ের প্রয়োজন শেষ হয়নি। বরং মানুষের ব্যস্ত জীবনের মধ্যে বইকে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন আরও বেড়েছে। সেই প্রয়োজনের কথাই মনে করিয়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি—লাইব্রেরি সবসময় এক জায়গায় থাকবে এমন নয়, কখনো কখনো বইয়ের জন্য লাইব্রেরিকেই পথে নামতে হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

বই যখন পথে নামে

আপডেট : ১২:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সুরাইয়া তাসনিম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি

একসময় বই পড়তে হলে লাইব্রেরিতে যেতে হতো। নির্দিষ্ট একটি জায়গায় গিয়ে পছন্দের বই খুঁজে নেওয়া, কিছু সময় বইয়ের সঙ্গে কাটানো—এটাই ছিল পরিচিত চিত্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রেও এসেছে পরিবর্তন। এখন বইকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি।

 

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি মূলত বইকে এক জায়গায় আটকে না রেখে পাঠকের কাছে নিয়ে যাওয়ার একটি উদ্যোগ। একটি গাড়ির মধ্যেই সাজানো থাকে বিভিন্ন ধরনের বই। নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে এটি থামে, আর সেখান থেকেই পাঠকেরা বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

 

ব্যস্ত জীবনে অনেকেরই নিয়মিত লাইব্রেরিতে যাওয়ার সুযোগ হয় না। পড়াশোনা, কাজ কিংবা নানা ব্যস্ততার কারণে বই পড়ার ইচ্ছা থাকলেও সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় বই যদি নিজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তাহলে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগও কিছুটা সহজ হয়।

 

বর্তমানে তরুণদের অবসর সময়ের বড় একটি অংশ কাটে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এর মধ্যেও বইকে মানুষের সামনে নিয়ে আসার এমন উদ্যোগ নতুন করে পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে পারে। হয়তো হঠাৎ কোনো একটি বইয়ের মলাট চোখে পড়বে, আর সেখান থেকেই শুরু হবে পড়ার নতুন অভ্যাস।

 

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বিশেষত্ব শুধু এর চলমান ব্যবস্থায় নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি সহজ চিন্তা—বইকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া। কারণ পাঠাভ্যাস তৈরি করতে শুধু বই থাকা যথেষ্ট নয়, বইয়ের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগও তৈরি করতে হয়।

 

একটি চলমান গাড়ির ভেতর সাজানো বই হয়তো বড় কোনো লাইব্রেরির বিকল্প নয়। কিন্তু বই পড়ার সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কম নয়। বিশেষ করে যারা সহজে লাইব্রেরিতে যেতে পারেন না, তাদের কাছে এটি হতে পারে বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন মাধ্যম।

 

প্রযুক্তির এই সময়ে বইয়ের জায়গা হয়তো বদলেছে, কিন্তু বইয়ের প্রয়োজন শেষ হয়নি। বরং মানুষের ব্যস্ত জীবনের মধ্যে বইকে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন আরও বেড়েছে। সেই প্রয়োজনের কথাই মনে করিয়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি—লাইব্রেরি সবসময় এক জায়গায় থাকবে এমন নয়, কখনো কখনো বইয়ের জন্য লাইব্রেরিকেই পথে নামতে হয়।