ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন আটক লালমোহনে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত যুবদল নেতাকে আর্থিক সহায়তা দিলেন স্পিকার অব. হাফিজ উদ্দিন  লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার

মাছ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞ… লালমোহনে কর্মহীন জেলেরা চান যথাসময়ে চাল, বন্ধ রাখার দাবি কিস্তি আদায়

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
  • আপডেট : ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে চলছে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতসহ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। শুক্রবার (৩অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ শে অক্টোবর পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করা জেলেরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই এই উপজেলার জেলেরা তাদের মাছ ধরা নৌকা, ট্রলার ও জালসহ প্রয়োজনীয় মাছ ধরা সরঞ্জামসহ তীরে ফিরে এসেছেন। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার আগেও ইলিশের তেমন দেখা পাননি জেলেরা। এতে করে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে জেলেদের মধ্যে।

 

উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের জেলে মো. ইব্রাহিম মাঝি ও ইদ্রিছ মাঝি বলেন, এ বছর নদীতে ইলিশের চরম খড়া ছিল। নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে অনেক সময় তীরে ফিরে মাছ বিক্রি করে দেখা যেতো তেলের টাকাও উঠেনি। এতে করে আমাদের এলাকার জেলেরা চরম কষ্টে দিনপার করেছেন। এখন আবার মা ইলিশ রক্ষার জন্য টানা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তবে আমাদের দাবি; যথা সময়ে যেন বরাদ্দের চালগুলো বিতরণ করা হয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে যেন এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৬ জন। যারা উপজেলার ছোট-বড় অন্তত ২৭ ঘাট দিয়ে নদী-সাগরে মাছ শিকারে নামেন। সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫ বাস্তবায়ন করতে এসব জেলেদের মাছ ধরা থেকে থাকতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্দ রয়েছে।

লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার আগে আমরা জেলেদের নিয়ে কয়েকটি সচেতনতা সভা করেছি। আশা করছি জেলেরা ২২দিনের এই নিষেধাজ্ঞায় সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন। তারপরও কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে গেলে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য চালের বরাদ্দ রয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য এনজিওগুলোর সঙ্গে কথা বলবো। তবে এবারের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। অভিযানে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

মাছ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞ… লালমোহনে কর্মহীন জেলেরা চান যথাসময়ে চাল, বন্ধ রাখার দাবি কিস্তি আদায়

আপডেট : ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে চলছে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতসহ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। শুক্রবার (৩অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ শে অক্টোবর পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করা জেলেরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই এই উপজেলার জেলেরা তাদের মাছ ধরা নৌকা, ট্রলার ও জালসহ প্রয়োজনীয় মাছ ধরা সরঞ্জামসহ তীরে ফিরে এসেছেন। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার আগেও ইলিশের তেমন দেখা পাননি জেলেরা। এতে করে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে জেলেদের মধ্যে।

 

উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের জেলে মো. ইব্রাহিম মাঝি ও ইদ্রিছ মাঝি বলেন, এ বছর নদীতে ইলিশের চরম খড়া ছিল। নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে অনেক সময় তীরে ফিরে মাছ বিক্রি করে দেখা যেতো তেলের টাকাও উঠেনি। এতে করে আমাদের এলাকার জেলেরা চরম কষ্টে দিনপার করেছেন। এখন আবার মা ইলিশ রক্ষার জন্য টানা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তবে আমাদের দাবি; যথা সময়ে যেন বরাদ্দের চালগুলো বিতরণ করা হয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে যেন এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৬ জন। যারা উপজেলার ছোট-বড় অন্তত ২৭ ঘাট দিয়ে নদী-সাগরে মাছ শিকারে নামেন। সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫ বাস্তবায়ন করতে এসব জেলেদের মাছ ধরা থেকে থাকতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্দ রয়েছে।

লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার আগে আমরা জেলেদের নিয়ে কয়েকটি সচেতনতা সভা করেছি। আশা করছি জেলেরা ২২দিনের এই নিষেধাজ্ঞায় সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন। তারপরও কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে গেলে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য চালের বরাদ্দ রয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য এনজিওগুলোর সঙ্গে কথা বলবো। তবে এবারের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। অভিযানে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।