ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন আটক লালমোহনে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত যুবদল নেতাকে আর্থিক সহায়তা দিলেন স্পিকার অব. হাফিজ উদ্দিন  লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার

লালমোহনে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ !

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৬:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):

ভোলার লালমোহন উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি চুরি, ইভটিজিং, মাদক বিক্রি ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, দিনে-দুপুরেও এখন আর নিরাপদ বোধ করা যাচ্ছে না।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের চরকচুয়াখালী এলাকায় মো. আবু বক্কর (৫৫) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দালাল বাজার এলাকায় দিনে দুপুরে একটি অটোরিকশা চুরি হয়। যদিও পরবর্তীতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ঐ অটোরিকশাসহ চোরকে আটক করেন । এছাড়া কালমা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড লেজ ছকিনা গ্রামে পৃথক দুটি অটোরিকশা চুরির ঘটনাও ঘটে। চরভুতা ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ৩ জানুয়ারি ভোর রাতে কীটনাশকের সার্টারের তালা ভেঙ্গে দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৩ লাখ টাকার কীটনাশক নিয়ে যায় চোরচক্র।

 

 

গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২৬ ডিসেম্বর বদরপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড হাজিরহাট এলাকায় রহমান সিউলির বাড়িতে খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে ১০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করা হয়। পরদিন একই এলাকার জমাদার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার সুপারি চুরি হয়। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কামাল হাওলাদারের ঘরে নেশাজাতীয় স্প্রে ব্যবহার করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই তারিখে ২নং ওয়ার্ডে প্রতিবন্ধী জাকিরের একটি ছাগল চুরি হয় এবং ৯নং ওয়ার্ডে তৈয়ব মাওলানার নয় বস্তা সিদ্ধ ধান চুরি এছাড়া ৯নং ওয়ার্ডে হেলার মাঝির নৌকা থেকে সোলার ব্যাটারি চুরি । ২৯ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পুলিশ ক্যাম্পের পাশে মোসলেহ উদ্দিন মিয়ার বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়।

 

 

অন্যদিকে শুক্রবার (২ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চর উমেদ গ্রামের আজাহার রোড এলাকার আফির উদ্দিন বাড়ীর মৃত বাবুলের বসত ঘরে, ওমর আলী হাজী বাড়ীর মাকসুদ উল্লাহ মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে তার ছেলে সেকান্তর ও তার স্ত্রীর নগদ টাকা, স্বর্নের চেইন, একই বাড়ীর মিজান খলিফা, বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম ও জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল হক এর গ্রামের বাড়ীর বসত ঘরে সিঁধেল কেটে হানা দেয় চোরের দল।

 

 

এছাড়া লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে। লালমোহন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের করিম রোড, থানার মোড় ও আশপাশ এবং লালমোহন করিমুন্নেছা–হাফিজ মহিলা কলেজের সামনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়েও ইভটিজিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল ছাত্রী বলেন, সকালে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার সময় করিম রোডের সামনে ঠিক থানার অপজিটে কিশোর গ্যাং এর একটি দল মেয়েদের উত্যক্ত করেন, সেদিন আমার আম্মুকেও ওরা উত্যক্ত করা থেকে রেহায় দেইনি।

 

 

এছাড়া ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের সিন্নিখোলা, বাতিরখাল এলাকা, আজহাররোড ও চতলা বাজার সড়কের মধ্যবর্তী কালভার্টে প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সাবেক পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সড়ক, মডেল সমজিদ সংলগ্ন পৌরসভার গেট এলাকায়, ভুইল্লালাগো কান্দি, নয়ানীগ্রাম, আড়াই আনি সড়ক, লেংগার দোকান, বর্নালী সড়ক, গুচ্ছ গ্রাম, হাইস্কুল মাঠ, কল্লাকাটা রোড, পাটওয়ারী কান্দি, পৌরসভার গোল মার্কেটের ছাদের উপর, পলিটেকনিক্যাল কলেজের পিছনের রোড়, জেলেপাড়া, পাকার মাথাসহ বিভিন্ন স্পটে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। একই চিত্র দেখা মেলে কালমা ইউনিয়নের তরুল্যা সেন্টার ও ডাওরী বাজারের দক্ষিণ পূর্ব পাশে চরলক্ষী এলাকায়, চরছকিনা, আলম বাজার, ফরাজির দোকান, মেম্বারের দোকান এলাকায় মাদক বেচাকেনা চলছে অহরহ। লালমোহন ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড উত্তর ফুলবাগিচা এলাকায় গুচ্চগ্রামে মাদক প্যাকেটজাত, সেবন ও বিক্রি হচ্ছে নিয়মিত।

 

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন থানার সোর্স যারা রয়েছেন তাদের মাধ্যমে লালমোহনের দায়িত্বরত এসআই ও এএসআইদের একটি চক্র এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ করতে গেলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে আলাদাভাবে বাদী ও বিবাধেী থেকে ২-৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর থানার ভেতর ও আশপাশে সালিশ বাণিজ্য চলার কথাও উঠে এসেছে।

 

 

স্থানীয় এক সমাজ কর্মী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, লালমোহন থানায় গেলে দেখবেন এসআই ও এএসআইদের নেতৃত্বে থানার গোল ঘরে সন্ধ্যায় পর থেকে চলে রমরমা সালিশ বাণিজ্য, তারা নারী ও শিশু ডেস্কটিও সালিশ বানিজ্যে ব্যবহার করেন। থানায় এই সালিশ বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে এক শ্রেণির দালাল সার্ভেয়ার। এদের মধ্যে রয়েছে যুবলীগ নেতা সার্ভেয়ার কবির, শরিফসহ কয়েকজন। তিনি আরও জানান, থানায় একটি জিডি বা অভিযোগ লিখতে হলে দিতে হয় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। সূত্র জানয়, পূর্বের ওসি সিরাজুল ইসলাম এই সালিশ বাণিজ্যে রুখে দিয়েছিলেন। তিনি থানা থেকে সালিশের টুলটেবিল গুলো অপসারণ করেছিল।

 

 

স্থানীয় সচেতন মহলের একাদিক সুত্র বলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত টহল, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমাজে চরম বিশৃঙ্খলতা দেখা দিবে।

 

 

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, চুরি, মাদক ও থানায় সালিশ বানিজ্য এবং ইভটিজিং সংক্রান্ত বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনির মতো কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চুরির ঘটনা বেড়েছে। ভুক্ত ভোগীর অভিযোগের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অটো রিকশা চালককে হত্যার ঘটনাটি উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। থানার মধ্যে সালিশ

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

লালমোহনে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ !

আপডেট : ০৬:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):

ভোলার লালমোহন উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি চুরি, ইভটিজিং, মাদক বিক্রি ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, দিনে-দুপুরেও এখন আর নিরাপদ বোধ করা যাচ্ছে না।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের চরকচুয়াখালী এলাকায় মো. আবু বক্কর (৫৫) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দালাল বাজার এলাকায় দিনে দুপুরে একটি অটোরিকশা চুরি হয়। যদিও পরবর্তীতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ঐ অটোরিকশাসহ চোরকে আটক করেন । এছাড়া কালমা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড লেজ ছকিনা গ্রামে পৃথক দুটি অটোরিকশা চুরির ঘটনাও ঘটে। চরভুতা ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ৩ জানুয়ারি ভোর রাতে কীটনাশকের সার্টারের তালা ভেঙ্গে দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৩ লাখ টাকার কীটনাশক নিয়ে যায় চোরচক্র।

 

 

গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২৬ ডিসেম্বর বদরপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড হাজিরহাট এলাকায় রহমান সিউলির বাড়িতে খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে ১০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করা হয়। পরদিন একই এলাকার জমাদার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার সুপারি চুরি হয়। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কামাল হাওলাদারের ঘরে নেশাজাতীয় স্প্রে ব্যবহার করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই তারিখে ২নং ওয়ার্ডে প্রতিবন্ধী জাকিরের একটি ছাগল চুরি হয় এবং ৯নং ওয়ার্ডে তৈয়ব মাওলানার নয় বস্তা সিদ্ধ ধান চুরি এছাড়া ৯নং ওয়ার্ডে হেলার মাঝির নৌকা থেকে সোলার ব্যাটারি চুরি । ২৯ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পুলিশ ক্যাম্পের পাশে মোসলেহ উদ্দিন মিয়ার বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়।

 

 

অন্যদিকে শুক্রবার (২ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চর উমেদ গ্রামের আজাহার রোড এলাকার আফির উদ্দিন বাড়ীর মৃত বাবুলের বসত ঘরে, ওমর আলী হাজী বাড়ীর মাকসুদ উল্লাহ মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে তার ছেলে সেকান্তর ও তার স্ত্রীর নগদ টাকা, স্বর্নের চেইন, একই বাড়ীর মিজান খলিফা, বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম ও জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল হক এর গ্রামের বাড়ীর বসত ঘরে সিঁধেল কেটে হানা দেয় চোরের দল।

 

 

এছাড়া লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে। লালমোহন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের করিম রোড, থানার মোড় ও আশপাশ এবং লালমোহন করিমুন্নেছা–হাফিজ মহিলা কলেজের সামনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়েও ইভটিজিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল ছাত্রী বলেন, সকালে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার সময় করিম রোডের সামনে ঠিক থানার অপজিটে কিশোর গ্যাং এর একটি দল মেয়েদের উত্যক্ত করেন, সেদিন আমার আম্মুকেও ওরা উত্যক্ত করা থেকে রেহায় দেইনি।

 

 

এছাড়া ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের সিন্নিখোলা, বাতিরখাল এলাকা, আজহাররোড ও চতলা বাজার সড়কের মধ্যবর্তী কালভার্টে প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সাবেক পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সড়ক, মডেল সমজিদ সংলগ্ন পৌরসভার গেট এলাকায়, ভুইল্লালাগো কান্দি, নয়ানীগ্রাম, আড়াই আনি সড়ক, লেংগার দোকান, বর্নালী সড়ক, গুচ্ছ গ্রাম, হাইস্কুল মাঠ, কল্লাকাটা রোড, পাটওয়ারী কান্দি, পৌরসভার গোল মার্কেটের ছাদের উপর, পলিটেকনিক্যাল কলেজের পিছনের রোড়, জেলেপাড়া, পাকার মাথাসহ বিভিন্ন স্পটে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। একই চিত্র দেখা মেলে কালমা ইউনিয়নের তরুল্যা সেন্টার ও ডাওরী বাজারের দক্ষিণ পূর্ব পাশে চরলক্ষী এলাকায়, চরছকিনা, আলম বাজার, ফরাজির দোকান, মেম্বারের দোকান এলাকায় মাদক বেচাকেনা চলছে অহরহ। লালমোহন ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড উত্তর ফুলবাগিচা এলাকায় গুচ্চগ্রামে মাদক প্যাকেটজাত, সেবন ও বিক্রি হচ্ছে নিয়মিত।

 

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন থানার সোর্স যারা রয়েছেন তাদের মাধ্যমে লালমোহনের দায়িত্বরত এসআই ও এএসআইদের একটি চক্র এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ করতে গেলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে আলাদাভাবে বাদী ও বিবাধেী থেকে ২-৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর থানার ভেতর ও আশপাশে সালিশ বাণিজ্য চলার কথাও উঠে এসেছে।

 

 

স্থানীয় এক সমাজ কর্মী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, লালমোহন থানায় গেলে দেখবেন এসআই ও এএসআইদের নেতৃত্বে থানার গোল ঘরে সন্ধ্যায় পর থেকে চলে রমরমা সালিশ বাণিজ্য, তারা নারী ও শিশু ডেস্কটিও সালিশ বানিজ্যে ব্যবহার করেন। থানায় এই সালিশ বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে এক শ্রেণির দালাল সার্ভেয়ার। এদের মধ্যে রয়েছে যুবলীগ নেতা সার্ভেয়ার কবির, শরিফসহ কয়েকজন। তিনি আরও জানান, থানায় একটি জিডি বা অভিযোগ লিখতে হলে দিতে হয় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। সূত্র জানয়, পূর্বের ওসি সিরাজুল ইসলাম এই সালিশ বাণিজ্যে রুখে দিয়েছিলেন। তিনি থানা থেকে সালিশের টুলটেবিল গুলো অপসারণ করেছিল।

 

 

স্থানীয় সচেতন মহলের একাদিক সুত্র বলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত টহল, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমাজে চরম বিশৃঙ্খলতা দেখা দিবে।

 

 

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, চুরি, মাদক ও থানায় সালিশ বানিজ্য এবং ইভটিজিং সংক্রান্ত বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনির মতো কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চুরির ঘটনা বেড়েছে। ভুক্ত ভোগীর অভিযোগের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অটো রিকশা চালককে হত্যার ঘটনাটি উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। থানার মধ্যে সালিশ