ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন আটক লালমোহনে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত যুবদল নেতাকে আর্থিক সহায়তা দিলেন স্পিকার অব. হাফিজ উদ্দিন  লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ লালমোহনে সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজি নেছার উদ্দিনের গণসংযোগ লালমোহ হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ লালমোহনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ কৃর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত লালমোহনে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে প্রথম বাপ্পি ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন স্পিকার

সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য জাতীয় বাজেটে ২% বরাদ্দ রাখার দাবী বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ১০:৫০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের উদ্যোগে জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতির উন্নয়নমুখী বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে দেশের প্রথিতযশা শিল্পী, কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

২৯ মে বৃহস্পতিবার  বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘ। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ্ আলম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি হুসনে মোবারক, সিদ্দিকুর রহমান, নাট্যনির্দেশক এম এ হামিদ, নূরুল হক, চলচ্চিত্র সমালোচক জিয়া উদ্দিন, বয়াতি দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে এবং একটি সম্ভাবনাময় সময় এখন। সাংস্কৃতিককর্মীরা প্রত্যাশা করে সংস্কৃতির বিকাশে রাষ্ট্র এবং সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমরা বিশ্বাস করি একটি উন্নত জাতি এবং মানবিক আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে জাতিকে সংস্কৃতিমনস্ক করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববরেণ্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আগামী ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য নূন্যতম ২% বরাদ্দ রেখে বাংলাদেশের শিল্পীদের দীর্ঘদিনের এই
দাবি পূরণে ভূমিকা রাখার জন্য। এ ধরণের পদক্ষেপ এদেশের মানুষ এবং শিল্প সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট সকলে দীর্ঘকাল ধরে স্মরণ করবে এবং এ ধরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি উন্নত জাতি গঠনে, সংস্কৃতিমনস্ক মানবিক মানুষ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের উত্থাপিত দাবীসমূহ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য জোর
দাবি জানাচ্ছি।
প্রস্তাবনা সমূহ: ১) দেশের প্রত্যেকটি উপজেলা, জেলায় শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম বিস্তৃত করে সংস্কৃতির মূলধারায় নিয়মিত কর্মকান্ড পরিচালনা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ২)প্রত্যেকটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় এবং চিত্রকলা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেইক্ষেত্রে  সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৩) ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় ও জেলা শহরে সাংস্কৃতিক অনুশীলন ও চর্চাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেখানে শিল্পীদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করে একটি নিজস্ব পরিমণ্ডল গড়ে তোলার মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এইক্ষেত্রে জেলা উপজেলা পর্যায়ে মুক্তমঞ্চ নির্মাণসহ পাঠাগার, লাইব্রেরী, মহড়া কক্ষ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৪)সরকারি অর্থায়নে একটি গবেষণাধর্মী প্রকল্প চালু করতে হবে। যার মাধ্যমে দেশজ সংস্কৃতির একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ণ করে দেশের  জনগণকে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৫)সাংস্কৃতিককর্মীদের জন্য একটি শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করতে হবে (ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে তবে খুব কার্যকরী ভূমিকা দৃশ্যমান নয়)। এই ট্রাস্ট কে শিল্পীদের জাতীয়ভাবে আর্থিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলয় হিসেবে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে শিল্পীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য আপদকালীন সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৬)সুস্থ চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে কর মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রেক্ষাগৃহ এবং প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। সেন্সরসহ সকল বিষয়ে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলা কুশলীদের আর্থিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৭) শিল্পী তালিকাভুক্তি এবং সম্মানীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বৈষম্য দূরীকরণসহ সম্মানী বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৮) রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে শিল্পকর্ম ও সাহিত্য কর্মের জন্য জাতীয় পদক প্রদান করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ জাতীয় পদক প্রদান কমিটি গঠন করতে হবে। জাতীয় পদক প্রদানের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। জাতীয় পদক প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৯) প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্‌ঘাটন ও সংরক্ষণ খাতের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জনবল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে। জাতীয় বাজেটে। ১০) উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে বয়স ভিত্তিক পূর্বের প্রচলিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করতে হবে এবং জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিল্পীদের স্বীকৃতি প্রদান ও জাতীয় উৎসব আয়োজন করার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১১) নাটক, চলচ্চিত্র, সংগীত, নৃত্যকলা, সাহিত্য, কবিতা, চিত্রকলাসহ সংস্কৃতির সকল বিষয়ে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজন করার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১২) সারাদেশে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য সম্মানজনক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১৩) সংস্কৃতিসেবী সংগঠনগুলোর অনুদান এবং অনুদানের চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য আরো অধিক পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১৪) আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের নৃত্যদল, নাট্যদল, সংগীতের দল, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চিত্রকলা প্রদর্শনীর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ থাকতে হবে।১৫) সংস্কৃতিসেবী সংগঠন সমূহের জন্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মিলনায়তন সমুহের ভাড়া কমাতে হবে এবং এইক্ষেত্রে ভ্যাট আদায় বন্ধ করতে হবে। মিলনায়তনগুলো নিয়মিত রেয়াতি হারে ব্যবহার করার জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য জাতীয় বাজেটে ২% বরাদ্দ রাখার দাবী বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের

আপডেট : ১০:৫০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের উদ্যোগে জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতির উন্নয়নমুখী বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে দেশের প্রথিতযশা শিল্পী, কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

২৯ মে বৃহস্পতিবার  বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘ। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ্ আলম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি হুসনে মোবারক, সিদ্দিকুর রহমান, নাট্যনির্দেশক এম এ হামিদ, নূরুল হক, চলচ্চিত্র সমালোচক জিয়া উদ্দিন, বয়াতি দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে এবং একটি সম্ভাবনাময় সময় এখন। সাংস্কৃতিককর্মীরা প্রত্যাশা করে সংস্কৃতির বিকাশে রাষ্ট্র এবং সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমরা বিশ্বাস করি একটি উন্নত জাতি এবং মানবিক আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে জাতিকে সংস্কৃতিমনস্ক করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববরেণ্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আগামী ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য নূন্যতম ২% বরাদ্দ রেখে বাংলাদেশের শিল্পীদের দীর্ঘদিনের এই
দাবি পূরণে ভূমিকা রাখার জন্য। এ ধরণের পদক্ষেপ এদেশের মানুষ এবং শিল্প সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট সকলে দীর্ঘকাল ধরে স্মরণ করবে এবং এ ধরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি উন্নত জাতি গঠনে, সংস্কৃতিমনস্ক মানবিক মানুষ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের উত্থাপিত দাবীসমূহ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য জোর
দাবি জানাচ্ছি।
প্রস্তাবনা সমূহ: ১) দেশের প্রত্যেকটি উপজেলা, জেলায় শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম বিস্তৃত করে সংস্কৃতির মূলধারায় নিয়মিত কর্মকান্ড পরিচালনা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ২)প্রত্যেকটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় এবং চিত্রকলা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেইক্ষেত্রে  সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৩) ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় ও জেলা শহরে সাংস্কৃতিক অনুশীলন ও চর্চাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেখানে শিল্পীদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করে একটি নিজস্ব পরিমণ্ডল গড়ে তোলার মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এইক্ষেত্রে জেলা উপজেলা পর্যায়ে মুক্তমঞ্চ নির্মাণসহ পাঠাগার, লাইব্রেরী, মহড়া কক্ষ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৪)সরকারি অর্থায়নে একটি গবেষণাধর্মী প্রকল্প চালু করতে হবে। যার মাধ্যমে দেশজ সংস্কৃতির একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ণ করে দেশের  জনগণকে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৫)সাংস্কৃতিককর্মীদের জন্য একটি শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করতে হবে (ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে তবে খুব কার্যকরী ভূমিকা দৃশ্যমান নয়)। এই ট্রাস্ট কে শিল্পীদের জাতীয়ভাবে আর্থিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলয় হিসেবে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে শিল্পীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য আপদকালীন সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৬)সুস্থ চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে কর মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রেক্ষাগৃহ এবং প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। সেন্সরসহ সকল বিষয়ে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলা কুশলীদের আর্থিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৭) শিল্পী তালিকাভুক্তি এবং সম্মানীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বৈষম্য দূরীকরণসহ সম্মানী বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৮) রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে শিল্পকর্ম ও সাহিত্য কর্মের জন্য জাতীয় পদক প্রদান করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ জাতীয় পদক প্রদান কমিটি গঠন করতে হবে। জাতীয় পদক প্রদানের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। জাতীয় পদক প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ৯) প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্‌ঘাটন ও সংরক্ষণ খাতের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জনবল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে। জাতীয় বাজেটে। ১০) উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে বয়স ভিত্তিক পূর্বের প্রচলিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করতে হবে এবং জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিল্পীদের স্বীকৃতি প্রদান ও জাতীয় উৎসব আয়োজন করার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১১) নাটক, চলচ্চিত্র, সংগীত, নৃত্যকলা, সাহিত্য, কবিতা, চিত্রকলাসহ সংস্কৃতির সকল বিষয়ে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজন করার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১২) সারাদেশে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য সম্মানজনক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১৩) সংস্কৃতিসেবী সংগঠনগুলোর অনুদান এবং অনুদানের চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য আরো অধিক পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে। ১৪) আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের নৃত্যদল, নাট্যদল, সংগীতের দল, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চিত্রকলা প্রদর্শনীর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ থাকতে হবে।১৫) সংস্কৃতিসেবী সংগঠন সমূহের জন্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মিলনায়তন সমুহের ভাড়া কমাতে হবে এবং এইক্ষেত্রে ভ্যাট আদায় বন্ধ করতে হবে। মিলনায়তনগুলো নিয়মিত রেয়াতি হারে ব্যবহার করার জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে জাতীয় বাজেটে।