ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সোহরাওয়ার্দী কলেজে এইচএসসিতে অকৃতকার্য ৭২৪, জিপিএ-৫ পেলেন মাত্র ৩ জন লালমোহনে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত লালমোহন সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফোরকানের সমর্থনে উঠান বৈঠক, উন্নয়নের অঙ্গীকার প্রার্থীর সন্তানের চিকিৎসার সহায়তার জন্য অসহায় বাবার আকুতি লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের মৃত্যু লালমোহনে চরভূতা ইউনিয়ন জিয়া পরিষদের ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন লালমোহনে কিশোরের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ লালমোহনে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লালমোহনে ৪ শতাধিক সরকারি গাছ কেটে নিলেন যুবদল নেতা অভিযোগ পেয়েও ইউএনও’র নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশের হিন্দুরাও এই দেশের নাগরিক, নিজেদেরকে অসহায় ভাবার কোনো কারণ নেই- স্পিকার মেজর হাফিজ

সন্তানের চিকিৎসার সহায়তার জন্য অসহায় বাবার আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৪:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):

১৮ বছরের তরুণ মো. আশরাফুল। সংসারে অভাব, যার জন্য খুব বেশি পড়ালেখা করা হয়নি। তাই অল্প বয়সেই শুরু করেছিলেন জীবিকার সংগ্রাম। স্বপ্ন ছিল নিজের উপার্জনে বাবার সঙ্গে অভাবের সংসারে হাল ধরবেন, গড়বেন সুন্দর ভবিষ্যৎ। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। এখন নিজেই পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে ওঠেছেন আশরাফুল। কয়েক মাস আগে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার ডান পা। তবে দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে নূন্যতম চিকিৎসাটুকুও মিলছে না আশরাফুলের। যার ফলে তার পায়ের ক্ষতস্থানে এখন পচন ধরেছে। এমন পরিস্থিতিতে অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে আশরাফুল। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইচগেট এলাকার বেড়িবাঁধের বাসিন্দা মো. বশিরের ছেলে। অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে কোনোরকমে সংসার চালান এই দরিদ্র কৃষক মো. বশির। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় পরিবার নিয়ে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খাসজমিতে বাস করেন তিনি।

 

আশরাফুল জানান, কয়েক মাস আগে লালমোহন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় পৌরশহরের ডাকবাংলো পুলের পশ্চিম পাশে ভাঙা সড়কে মোটরসাইকেলটি ধীরগতিতে চলছিল। তবে পেছন থেকে দ্রুতগতির পাথরবোঝাই একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক সড়কের পাশে ছিটকে পড়লেও আশরাফুল পড়ে যান ট্রাকের নিচে। ট্রাকের চাকা তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। চালক তাকে মৃত ভেবেই ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান। ওই ট্রাকটি হাসপাতাল রোডের জুলফিকার মিয়ার। তবে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য ওই ট্রাকের মালিকের কাছ থেকে কোনো সহায়তা মেলেনি। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। এরপর তাকে পঙ্গু হাসপাতালেও নেওয়া হয়। সেখানেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

আশরাফুলের বাবা মো. বশির বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছি। চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। যার জন্য টাকার অভাবে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ছেলের ক্ষতিগ্রস্ত পায়ের পাতার অংশ কেটে ফেলেন। এরপর ওই চিকিৎসক বলেছিলেন, চিকিৎসা করালে বাকি অংশ ঠিক হয়ে যাবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ, কোনো জমিজমা নেই। বেড়িবাঁধের পাশে খাসজমিতে থাকি। এখন ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো টাকা এবং নিয়মিত ড্রেসিং করানোর সামর্থ্যও নেই। রাতে ব্যথায় ছেলে যখন চিৎকার করে, তখন নিজেরও অনেক কষ্ট হয়। চিকিৎসার জন্য আরও অন্তত পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান এবং প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। আমার ছেলের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩৫০৪৯২০৪৩ (বিকাশ ব্যক্তিগত) এই নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।

 

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, চিকিৎসা সহায়তার জন্য ওই পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে আবেদন করলে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া আশরাফুলের পায়ের অংশ কেটে ফেলায় তিনি প্রতিবন্ধী ভাতাও পাবেন। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও ভাতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

সন্তানের চিকিৎসার সহায়তার জন্য অসহায় বাবার আকুতি

আপডেট : ০৪:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):

১৮ বছরের তরুণ মো. আশরাফুল। সংসারে অভাব, যার জন্য খুব বেশি পড়ালেখা করা হয়নি। তাই অল্প বয়সেই শুরু করেছিলেন জীবিকার সংগ্রাম। স্বপ্ন ছিল নিজের উপার্জনে বাবার সঙ্গে অভাবের সংসারে হাল ধরবেন, গড়বেন সুন্দর ভবিষ্যৎ। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। এখন নিজেই পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে ওঠেছেন আশরাফুল। কয়েক মাস আগে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার ডান পা। তবে দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে নূন্যতম চিকিৎসাটুকুও মিলছে না আশরাফুলের। যার ফলে তার পায়ের ক্ষতস্থানে এখন পচন ধরেছে। এমন পরিস্থিতিতে অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে আশরাফুল। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইচগেট এলাকার বেড়িবাঁধের বাসিন্দা মো. বশিরের ছেলে। অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে কোনোরকমে সংসার চালান এই দরিদ্র কৃষক মো. বশির। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় পরিবার নিয়ে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খাসজমিতে বাস করেন তিনি।

 

আশরাফুল জানান, কয়েক মাস আগে লালমোহন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় পৌরশহরের ডাকবাংলো পুলের পশ্চিম পাশে ভাঙা সড়কে মোটরসাইকেলটি ধীরগতিতে চলছিল। তবে পেছন থেকে দ্রুতগতির পাথরবোঝাই একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক সড়কের পাশে ছিটকে পড়লেও আশরাফুল পড়ে যান ট্রাকের নিচে। ট্রাকের চাকা তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। চালক তাকে মৃত ভেবেই ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান। ওই ট্রাকটি হাসপাতাল রোডের জুলফিকার মিয়ার। তবে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য ওই ট্রাকের মালিকের কাছ থেকে কোনো সহায়তা মেলেনি। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। এরপর তাকে পঙ্গু হাসপাতালেও নেওয়া হয়। সেখানেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

আশরাফুলের বাবা মো. বশির বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছি। চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। যার জন্য টাকার অভাবে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ছেলের ক্ষতিগ্রস্ত পায়ের পাতার অংশ কেটে ফেলেন। এরপর ওই চিকিৎসক বলেছিলেন, চিকিৎসা করালে বাকি অংশ ঠিক হয়ে যাবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ, কোনো জমিজমা নেই। বেড়িবাঁধের পাশে খাসজমিতে থাকি। এখন ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো টাকা এবং নিয়মিত ড্রেসিং করানোর সামর্থ্যও নেই। রাতে ব্যথায় ছেলে যখন চিৎকার করে, তখন নিজেরও অনেক কষ্ট হয়। চিকিৎসার জন্য আরও অন্তত পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান এবং প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। আমার ছেলের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩৫০৪৯২০৪৩ (বিকাশ ব্যক্তিগত) এই নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।

 

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, চিকিৎসা সহায়তার জন্য ওই পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে আবেদন করলে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া আশরাফুলের পায়ের অংশ কেটে ফেলায় তিনি প্রতিবন্ধী ভাতাও পাবেন। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও ভাতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।