দীর্ঘ পরীক্ষাসূচি নিয়ে ক্ষোভ, সেশনজটের শঙ্কায় ডিসিইউর শিক্ষার্থীরা
- আপডেট : ০৬:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
সুরাইয়া তাসনিম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধিঃ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) অনার্স প্রথম বর্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার রুটিন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সোমবার( ১৯ অক্টোবর ) ডি সি ইউ এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. শহীদুল্লাহের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত সাত কলেজের বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষার সময়সূচি উল্লেখ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা চলবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলার পাশাপাশি পরীক্ষার মধ্যবর্তী বিরতি তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করছে। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাব, ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ভাইভা সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এতে সেশনজটের পাশাপাশি পরবর্তী বর্ষের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেজর ও নন-মেজরসহ লিখিত পরীক্ষা শেষ করতেই প্রায় দুই মাস ১১ দিন সময় লাগছে। এর সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষা, ল্যাব ও ভাইভা যুক্ত হলে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা সম্পন্ন হতে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ দিনের দীর্ঘ বিরতি থাকায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চললে মানসিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি মেস বা হলে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করতে হবে, যা তাদের আবাসন ও জীবনযাপনের ব্যয় বাড়াবে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে না পারলে চাকরির বাজার ও উচ্চশিক্ষায় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
পরীক্ষার সময়সূচির পাশাপাশি প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. হাসিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকাকালে সাত কলেজের জন্য সমন্বিত রুটিন তৈরি করা হতো। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরও পরীক্ষার সময়সূচি প্রণয়নে সেই পুরোনো ধারার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
হাসিনের মতে, একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার রুটিন কেন বোর্ড পরীক্ষার মতো করে তৈরি করা হবে? অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত বিভাগভিত্তিক পরীক্ষার সময়সূচি তৈরি করা হলেও ডিসিইউতে পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি, পাশাপাশি পরীক্ষার রুটিন তৈরির ক্ষেত্রেও পুরোনো পদ্ধতি বজায় রয়েছে। এ অবস্থায় স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নতুন ব্যবস্থার বাস্তব প্রতিফলন কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আতিক সরকার বলেন, লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ল্যাব, ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ভাইভা শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগলে পরবর্তী বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রমও পিছিয়ে পড়তে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে চলার কারণ ব্যাখ্যা করে ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শহিদুল্লাহ বলেন, ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৭ দিনের ছুটি থাকায় এ সময়ে কলেজগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ফলে পরীক্ষা শেষ করতে বেশি সময় লাগছে।
বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, যেসব বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা আগে শেষ হবে, সেসব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা আগেই শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে ছুটি তুলনামূলক কম থাকবে। ফলে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে কম সময় লাগবে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে তারা চিন্তাভাবনা করবেন বলে জানান তিনি।
চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা প্রসঙ্গে অধ্যাপক শহিদুল্লাহ বলেন, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাও শুরু করা হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা বর্তমান পরীক্ষার রুটিন পুনর্বিবেচনা করে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


















