উপাচার্য ইস্যু থেকে কমিটি বিতর্ক, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ডিবেটিং সোসাইটিতে প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব
- আপডেট : ০৩:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে
সুরাইয়া তাসনিম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধিঃ
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আওলাদ জিসানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যকে নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন, আট মাসেও নতুন কমিটি গঠন না হওয়া, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে পক্ষপাত এবং সংগঠনের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন আওলাদ জিসান। অন্যদিকে, সংগঠনটির মডারেটর জানিয়েছেন, পূজার ছুটির পর নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
উপাচার্যকে ঘিরে অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হলেও পরে তাঁকে বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আবার শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে দ্বৈত অবস্থানের পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই এমন অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।
ডিবেটিং সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৌহিদুল। তাঁর দাবি, বর্তমান কমিটির মেয়াদ আট মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া অধ্যক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেট করার অভিযোগও তোলেন তিনি। নতুন কমিটি গঠন ঠেকাতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তৌহিদুল।
বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এটিএন বাংলাসহ বিভিন্ন বড় প্রতিযোগিতায় নির্দিষ্ট কয়েকজনকে পাঠানো হচ্ছে, ফলে অন্য সদস্যরা অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংগঠনটির কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আওলাদ জিসান বলেন, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলোনি প্রতিষ্ঠা করবেন। এ আশঙ্কা থেকেই শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে বয়কট কর্মসূচি পালন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উপাচার্যের অবস্থান পর্যালোচনা করে তাঁরা বুঝতে পারেন, তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে ধারণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে কাজ করার মানসিকতা রাখেন। এরপর তাঁরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে আওলাদ জিসান বলেন, সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। মডারেটর শিক্ষকেরাও চেষ্টা করেও সফল হননি। একপর্যায়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টনে সিন্ডিকেটের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, মডারেটর শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিযোগিতার জন্য সদস্য নির্বাচন করা হয়।
এদিকে, ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাইমুল ইসলাম সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, তাঁর জানা অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বণ্টন প্রসঙ্গে ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর আসমা আক্তার বেলি বলেন, টেলিভিশনে প্রচারিত বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সদস্যদের বাছাই করে পাঠানো হয়। তবে ধীরে ধীরে সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিতর্কের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থের প্রয়োজন হলে অধ্যক্ষ আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। সেই অর্থ সদস্যদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হয়। পাশাপাশি বিতর্কের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও অন্যান্য সহযোগিতাও দেওয়া হয়।
নির্বাচনের বিষয়ে আসমা আক্তার বেলি জানান, পূজার ছুটির পর ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা নিরসনের বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা জানা গেল।


















