অনিয়ম ও দুর্ণীতির আখড়া লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস
- আপডেট : ০৭:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অনিয়ম ও দুর্ণীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া হয় না কোনো কাজ। আর এই অনিয়ম ও দুর্ণীতির নাটেরগুরু শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি বিভিন্নখাত থেকে কৌশলে অর্থ আদায় করে মোটা অংশ বুঝিয়ে দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলমকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতার জন্য প্রত্যেক শিক্ষককে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর বিল্লাল হোসেনকে পাঁচশত থেকে পনেরশত টাকা দিতে হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৫৮৯ জন শিক্ষক শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেয়েছেন। এতেই বিল্লাল হোসেন ঘুষ বাণিজ্য করেছেন অন্তত চারলাখ টাকা। তিনি এই ঘুষের টাকার একটি মোটা অংশ বুঝিয়ে দেন শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলমকে। এছাড়া যারা ঘুষের নির্ধারিত অর্থ দেননি তাদের শ্রান্তি বিনোদনের ভাতাও দেয়া হয়নি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, অফিস থেকে কল দিয়ে জানানো হয়েছে শ্রান্তি বিনোদন ভাতার জন্য অফিস খরচ বাবদ পাঁচশত টাকাসহ আবেদন জমা দেয়ার জন্য। পাঁচশত টাকা না দিয়ে কেবল আবেদন জমা দেয়ায় আমাকে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা দেয়া হয়নি। অপরদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের স্লিপের অর্থ বরাদ্দের জন্য ৫ হাজার টাকা, অসুস্থতা ও মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদনের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, স্যালারি সীটের জন্য দুইশত টাকা, পেনশনের ফাইলের জন্য ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, শিক্ষকদের টিএ বিলের জন্য দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এসব খাতের ঘুষের অর্থও আদায় করেন শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেন। ঘুষের নির্ধারিত অর্থ না দেয়া হলে কোনো কাজ ঠিকমতো হয় না।
অভিযোগের ব্যাপারে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘুষের বিনিময়ে আমি কোনো কাজ করিনি। আমি নিয়মের মধ্যে থেকেই সব কাজ করছি। শ্রান্তি বিনোদনের দরখাস্তগুলো আমি শিক্ষক পলাশ স্যারকে দিয়েছি। তিনি যেগুলো আমাকে দিয়েছেন আমি সেগুলো অনলাইনে পোষ্টিং দিয়েছি। যাদের নাম বাদ পড়েছে সেগুলো পলাশ স্যারে বলতে পারবেন।
লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলম বলেন, অফিসের অনলাইনের সব কাজ বিল্লাল হোসেন করেন। কারও কাছ থেকে তিনি ঘুষ নিয়েছেন কিনা তা আমার জানা নেই। শ্রান্তি বিনোদনের জন্য টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি জানিনা। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন একাউন্স অফিসে টাকা দিতে হয় এজন্য হয়তো টাকা নিতে পারে। স্কুল ও ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষকগণ কিভাবে অফিসে বসে থাকেন এমন প্রশ্নের কোনো সদোত্তর জবাব তিনি দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, এসব অভিযোগগুলো অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা দায়ি ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
নিউজটি শেয়ার করুন

















