আট পরিবারের চলাচলের রাস্তায় এবং হেলিপ্যাডের উপর গাছের চারা লাগালেন লালমোহন পৌর প্রশাসক
- আপডেট : ০৪:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
বিগত সরকারের আমলে ভোলার লালমোহন হেলিপ্যাডের উন্নয়নের নামে পূর্বপাশের পুকুর বালি দিয়ে ভরাট করা হয়। পুকুর ভরাটের আগে পূর্ব পাশে পুকুরের পাড় রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতো ওই এলাকার বাসিন্দারা। ওই এলাকায় বর্তমানে ৮ পরিবার বসবাস করছেন। পুকুর ভরাট করার পরও ওই এলাকার বাসিন্দারা পূর্বপাশের রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতো। যাতায়াতের রাস্তাটি ছিলো হেলিপ্যাডের জায়গায়। কিন্তু, সেই রাস্তার জায়গায় বর্তমান পৌর প্রশাসক গাছের চারা লাগিয়ে এবং জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে ওই এলাকার ৮ পরিবার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ওই এলাকার বাসিন্দা রাশিদা বেগম বলেন, এখানে আমরা ৮ পরিবার বসবাস করি এবং আরো দুইটি পরিবার বসবাসের জন্য জমি ক্রয় করে ঘর উত্তোলনের কাজ শুরু করেছেন। আমাদের যাতায়াতের এই রাস্তা দিয়ে গাছ লাগানো হবে এমন সংবাদ পাওয়ার পর আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বরাবর রাস্তায় গাছ না লাগানোর জন্য লিখিত দরখাস্ত প্রদান করি এবং একাধিকবার দেখা করি। তখন তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেন চলাচলের রাস্তায় গাছ লাগানো হবে না। তিনি নিজে এসে পরিদর্শন করে গেছেন। এরপর তিনি পৌরসভার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের চলাচলের রাস্তায় গাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। শুধু গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, গাছ এবং রাস্তার চারপাশে জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে দিয়েছেন যাতে কেউ হাঁটতে না পারে। তিনি আরো বলেন, যিনি রক্ষক এবং যিনি বিচার করবেন তিনিই যদি অনিয়ম করেন তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। তাছাড়া জায়গা যারই হোক মানুষ চলাচলের রাস্তা কেউ কোন দিন বন্ধ করতে পারে কিনা এটা আমাদের প্রশ্ন।
এছাড়া হেলিপ্যাডের পশ্চিম পাশে পুকুরের পাড়টিও ওই এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে। সেখানে বা সেই রাস্তায় কোন গাছ লাগানো হয়নি।
শুধু রাশেদা বেগমই নন ওই এলাকার নাম প্রকাশে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মানুষের চলাচলের রাস্তায় গাছ কীভাবে লাগায়। হোকে সেটা পৌরসভার জায়গা। এখান দিয়ে তো মানুষ যাতায়াত করে। আমরা এখন কীভাবে বাড়ি থেকে বের হবো? নাম না প্রকাশ করার ব্যাপারে তারা বলেন, আমরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত বা কাজ করি। আপনারা আমাদের নাম প্রকাশ করলে পরবর্তীতে পৌরসভা থেকে আমাদেরকে বিভিন্ন ঝামেলায় ফেলবে এই ভয়ে আমরা নাম বলতে চাচ্ছি না।
শুধু হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশের রাস্তার মধ্যে না, হেলিপ্যাডের উপরেও গাছ লাগিয়েছেন এই পৌর প্রশাসক। তবে হেলিপ্যাডের উপরের গাছগুলো যথাযথ যত্ন নেয়া হয়নি। যেখানে হেলিপ্যাডের উপর হেলিকপ্টার ওঠানামা করে সেখানে গাছ লাগায় কীভাবে এটা ওই এলাকার জনগণের প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, মানুষের চলাচলের রাস্তায় গাছ লাগানোর কোন সুযোগ নেই। হেলিপ্যাডের পূর্বপাশে পৌরসভার কোন রাস্তার ছিলো না। এখানে রাস্তা বলতে কিছু অবৈধ দখলদার রাস্তা বানিয়ে চলাচল করতো। গাছ লাগানোর জন্য নির্ধারিত জায়গা ছাড়া গাছ লাগানো হয়নি।ওই এলাকার হেলিপ্যাডের পূর্বপাশের বাসিন্দারা এখন কীভাবে যাতায়াত করবে এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দেননি তিনি। এছাড়া হেলিপ্যাডের উপর গাছ লাগানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বন বিভাগ ও উদ্যান তথ্য বিদের পরামর্শ ক্রমে হেলিপ্যাডের উপর গাছ লাগানো হয়েছে। তারা বলেছে এই গাছ হেলিকপ্টার নামতে ও উঠতে কোন সমস্যা হবে না।
নিউজটি শেয়ার করুন



















