ডিএনএ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত লালমোহনের মহিউদ্দিন: মিথ্যা মামলার বেড়াজালে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি ও কারাভোগ
- আপডেট : ০৮:৫৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিয়ের ভুয়া দাবি ও অন্যের সন্তানকে নিজের বলে চালিয়ে দিয়ে এক যুবকের জীবন ও পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও আদালতের হস্তক্ষেপে অবশেষে সত্য উন্মোচিত হয়েছে। ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে যে, মামলার বাদী ফাতেমা বেগমের সন্তানের জৈবিক পিতা মহিউদ্দিন নন। এই মিথ্যা মামলার কারণে মহিউদ্দিনকে দীর্ঘ ৩ মাস ২৮ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে এবং তার প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী মহিউদ্দিনের পরিবার দাবি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চরমোল্লাজী এলাকার জামাল উদ্দিনের মেয়ে ফাতেমা বেগম (২০) গত ২৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মহিউদ্দিনকে ১নং আসামি করে মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: নারী ও শিশু-৮৬০/২০২৪ ইং)। পরবর্তীতে ১৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে শুধু মহিউদ্দিনকে আসামি করে ভোলা পারিবারিক আদালতে আরেকটি মামলা (পারিবারিক মোকদ্দমা নং-২৬/২০২৫) দায়ের করেন।
মামলা দুটিতে ফাতেমা বেগম দাবি করেন, মহিউদ্দিনের সাথে তার বিয়ের পূর্বে শারীরিক সম্পর্কের কারণে গর্ভবতী হয় এবং তার গর্ভের সন্তানটি মহিউদ্দিনেরই। তবে মামলার শুরু থেকেই মহিউদ্দিন এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছিলেন। তার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, ফাতেমা বেগমের সাথে তার কখনো কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি এবং ফাতেমার গর্ভের সন্তানও তার নয়। এই দুই মিথ্যা মামলার বেড়াজালে পড়ে মহিউদ্দিনকে ৩০/৪/২৫, ২৯/৬/২৫ এবং ৭/৫/২৬ তারিখের বিভিন্ন মেয়াদে সর্বমোট ৩ মাস ২৮ দিন জেল খাটতে হয়।
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ১ জুন ২০২৫ তারিখে মহিউদ্দিনের পিতা নুর মোহাম্মদ লালমোহন সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ফাতেমা বেগমের সন্তানের ডিএনএ টেস্টের আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশে গত ৫ মার্চ ২০২৬ (স্মারক নং-২৬৬) এবং ২০ এপ্রিল ২০২৬ (স্মারক নং ৩০৮-৩) তারিখে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে মালিবাগ ঢাকা সিআইডি-র ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষজ্ঞ শুভজয় বৈদ্য ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত মতামত প্রদান করেন। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ফাতেমা বেগমের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা মহিউদ্দিন নন।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন বলেন, “আল্লাহ আমার উপর খাস রহমত করেছেন। বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত যে এই সন্তানের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। ফাতেমার সাথে আমার কোনোদিন সম্পর্ক ছিলো না। জামাল উদ্দিন ও তার কিছু কুচক্রী আত্মীয় মিলে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতে এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছিল। এই মিথ্যা অপবাদে আমার জীবনের সোনালী সময় নষ্ট হয়েছে, প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আমি আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি । এই ঘটনারে কেন্দ্র করে আমার সন্তানরা বাড়ি ছাড়া, এলাকায় ছোট বড় সবার কাছে আমার সম্মানহানি করেছে তারা।
যারা আমার ও আমার পরিবারের সাথে এই অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি খুব শীঘ্রই আইনগত পদক্ষেপ নিবো।”
ডিএনএ রিপোর্টের বিষয়ে জানতে ও মিথ্যা মামলা সম্পর্কে জানতে বাদী ফাতেমা বেগমের পিতা জামাল উদ্দিন কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার তারিখ পড়েছে। আমি এখন ব্যস্ত আছি। আপনি পরে কল করেন বলে কেটে দেন। এরপর তাকে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
এই ঘটনার ডিএনএ রিপোর্ট আদালতে জমা হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি নিরীহ পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় ও সামাজিকভাবে মানহানি করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন ন্যায় বিচার পাবেন বলে সকলে বিশ্বাস করেন।
নিউজটি শেয়ার করুন










