লালমোহনে ২৩টি মন্ডপে শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব
- আপডেট : ০৭:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবে বেড়েছে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা। গত বছর ১৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হলেও এবার ২৩টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে শুক্রবার (১৬ অক্টোবার)। শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তের ভক্তি, নিষ্ঠা ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় মাতৃরূপে দেবী দুর্গা অধিষ্ঠিত হবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। দেবী দুর্গার আগমনে উচ্ছ্বসিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। চলছে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে উপজেলায় ২৩টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় পূজার মাধ্যমে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) আমন্ত্রণ জানানো হয়। শাস্ত্রমতে এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটবে ঘোড়ায় (ঘোটক) এবং প্রস্থান বা গমন হবে নৌকায়।
উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে ঘুরে দেখা যায়, মন্দিরে মন্দিরে এখন চলছে শেষ মূহুর্তের দেবী প্রতিমার রং তুলির কাজ। কাদামাটির প্রলেপের ওপর রংতুলির আঁচড়ে দশভুজা দেবী ষষ্ঠীর দিন পাবেন জীবন্ত রূপ। দেবী সেজে উঠবেন অপরূপ সাজে। শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মঙ্গলসংগীতে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী, রবিবার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী,
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী ও বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পূজা। দশমীর দিনে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
লালমোহন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি নিরব কুমার দে বলেন, শুক্রবার ১৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। লালমোহন উপজেলায় এবার ২৩টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর উপজেলার ১৯টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। সে হিসাবে চারটি পূজা মন্ডপ বেড়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির কারনে মূলত মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া আমাদের নেতা ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি মন্দিরে অনুদান প্রদান করেছেন। তিনি সুষ্ঠু ভাবে পূজা উদযাপন করার জন্য আমাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। আমরা নির্বিঘ্নে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পারবো বলে আশাবাদী।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, পূজা মণ্ডপগুলোতে নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ডপের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যদের সাথে পূজা উৎযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। ২৩টি পূজামন্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মণ্ডপের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বেচ্ছাসেবক, আনসারদের পাশাপাশি পুলিশ ও থাকবে। এছাড়া কোস্টগার্ডের সদস্যরা নিয়মিত টহল দেবেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা মণ্ডপগুলো নিয়মিত মনিটরিং করবো। অস্বচ্ছল পূজামন্ডপগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হবে।



















