সোহরাওয়ার্দী কলেজের মেডিকেল সেন্টারে সংকট, সেবা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ
- আপডেট : ১০:৩০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
সুরাইয়া তাসনিম, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধিঃ

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত জায়গা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ফার্স্ট এইড সামগ্রীর ঘাটতিসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে জরুরি সময়ে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় কলেজে অবস্থানের কারণে হঠাৎ অসুস্থতা, মাথা ঘোরা বা ছোটখাটো আঘাতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া জরুরি। তবে মেডিকেল সেন্টারের সীমিত পরিসর ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
শিক্ষার্থী তাসনিম বিথি বলেন, আমাদের কলেজে একটি মেডিকেল সেন্টার আছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের তুলনায় এটি যথেষ্ট নয়। সেন্টারটি খুবই ছোট এবং সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো বিলাসবহুল ব্যবস্থা চাই না। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় একটি পর্যাপ্ত, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর মেডিকেল সেন্টার করা হোক। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ওষুধের ব্যবস্থা থাকুক।
অন্য এক শিক্ষার্থী লুবাবা জাহান প্রিয়া বলেন, কলেজে কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ বা আহত হলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় ফার্স্ট এইড সামগ্রীর ঘাটতি থাকায় জরুরি সময়ে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা চাই, প্রয়োজনীয় ফার্স্ট এইড সামগ্রী ও ওষুধসহ মেডিকেল সেন্টারটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হোক।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. কানিজ ফাতেমা কেয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। গত দুই মাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোটামুটি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
ডা. কানিজ ফাতেমা কেয়া জানান, মেডিকেল সেন্টারে প্যারাসিটামল, আলসারের ওষুধ, পেইনকিলারসহ বিভিন্ন সাধারণ ওষুধ রয়েছে। রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। আগে শিক্ষার্থীদের ফ্যান ও বেডের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল, তবে বর্তমানে সেসব সমস্যা নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাকেন্দ্রে আসেন। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা নেন। পরীক্ষার সময় এ সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যায়।
চিকিৎসক আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী নতুন সুবিধা যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কোনো কোনো সময় নির্দিষ্ট ওষুধের মজুত শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানালে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।
অভিযোগ ও সার্বিক বিষয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলি মুখোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগটি অনেক আগের এবং ইতোমধ্যে এর সমাধান করা হয়েছে। ছোট একটি ঘরে বড় কোনো রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়; তবে সাময়িক অসুস্থতা বা কাটা-ছেঁড়ার প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।
সপ্তাহের সব দিন চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতে আলাদা বাজেট না থাকায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া ২০ টাকা ফি থেকে একজন চুক্তিভিত্তিক এমবিবিএস চিকিৎসকের বেতন দেওয়া হয়। এ কারণে একাধিক চিকিৎসক রাখা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চাহিদা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করতে হয়। বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারটি প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উন্নত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফার্স্ট এইড সামগ্রী নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজটি শেয়ার করুন










