ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে একই ঘরে চারজনই গুরুতর অসুস্থ ! চিকিৎসার জন্য সবার সহায়তার আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৮:০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
একটি ঘর। সেই ঘরেই অসুস্থ চারজন মানুষ। কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত, কেউ স্ট্রোকে পঙ্গু, আবার কেউ বয়সের ভারে শয্যাশায়ী। একসময় যে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করত, এখন সেই পরিবারে নেমে এসেছে অসহায়ত্বের অন্ধকার। চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে পরিবারটির। এমন করুণ পরিস্থিতি ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নবীনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের (৪৫) পরিবারের। তিনি পেশায় ছিলেন মাইক্রোবাস চালক। স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও মা-বাবাকে নিয়ে ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু একের পর এক অসুস্থতার ছোবলে পুরো পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

হেলাল উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় আমার শারীরিক নানা জটিলতা। এক সময় পুরো পেট ফুলে যায়, যার জন্য কোনো খাবারই খেতে পারতাম না। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান- আমার পেটে বড় ধরনের টিউমার হয়েছে। এ জন্য ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। এরপর ২০২৪ সালের শেষের দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেলে (পিজি) যাই। সেখানে পুনরায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, আমার পেটে বড় ধরনের টিউমার রয়েছে এবং সেই টিউমারের কারণে খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তারপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে নিজের জমানো টাকা ও ধারদেনা করে পিজি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাই। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার পেট থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কেজি ওজনের একটি টিউমার বের করা হয়।

তিনি আরও জানান, এরপর চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে নিজের ঘরভিটা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দিই। পাশাপাশি মানুষের সহযোগিতা এবং ধারদেনার টাকায় শুরু করি ক্যান্সারের চিকিৎসা। এ পর্যন্ত আমার চিকিৎসায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এরপর কোনো উপায় না পেয়ে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে যখন ঘরভিটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই তখন একজন মানবিক মানুষ আমার পাশে দাঁড়ান। তিনি আর্থিকভাবে অনেকটা সহযোগিতা করেছেন। তবে বারোটি থেরাপি নেওয়ার কথা থাকলেও নয়টি থেরাপি নেওয়ার পরই নতুন বিপদ নেমে আসে আমার পরিবারে। আমার স্ত্রী ময়না বেগম (৪০) ব্রেন স্ট্রোক করেন। এতে তার ডান পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর একে একে স্ট্রোক করেন আমার বাবা সাহেব আলী (৭৫) ও মা হামেলা খাতুন (৭০)। বর্তমানে আমার স্ত্রী ময়না, বাবা সাহেব আলী ও মা হামেলা খাতুনসহ পরিবারের সবাই অসুস্থ। মা হামেলা খাতুন এতটাই অসুস্থ যে, অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। আর বাবা সাহেব আলীর হাত-পা অবশ হয়ে তিনি ঘরেই পড়ে থাকেন। নিজেও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছি। অথচ নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বও আমার কাঁধে। বর্তমানে বাড়ির সামনে একটি ছোট মুদি দোকান দিয়ে ওই দোকানের সামান্য আয়েই কোনো রকমে সংসার চলছে।
হেলাল আরও জানান, একটি পরিবারের সবাই অসুস্থ হলে ওই পরিবারটির কী করুণ পরিস্থিতি হয় তা মানুষের চেয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই ভালো জানেন। টাকার অভাবে এখন কারওই চিকিৎসা চলছে না। তাই আমি দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, দেশ-বিদেশের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষ এবং মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আমার পুরো পরিবারের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি। সবার সহায়তায় চিকিৎসা নিয়ে আমরা বাঁচতে চাই। সামর্থ্যবান কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আবারও চিকিৎসার সুযোগ মিলবে আমার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। আমাদের চিকিৎসায় কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭৩২১৮৪৯০৬ (বিকাশ ব্যক্তিগত) নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ রইলো।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, ওই পরিবারের পক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে ও তার স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এছাড়া হেলালের বাবা-মা বর্তমানে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

লালমোহনে একই ঘরে চারজনই গুরুতর অসুস্থ ! চিকিৎসার জন্য সবার সহায়তার আকুতি

আপডেট : ০৮:০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
একটি ঘর। সেই ঘরেই অসুস্থ চারজন মানুষ। কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত, কেউ স্ট্রোকে পঙ্গু, আবার কেউ বয়সের ভারে শয্যাশায়ী। একসময় যে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করত, এখন সেই পরিবারে নেমে এসেছে অসহায়ত্বের অন্ধকার। চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে পরিবারটির। এমন করুণ পরিস্থিতি ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নবীনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের (৪৫) পরিবারের। তিনি পেশায় ছিলেন মাইক্রোবাস চালক। স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও মা-বাবাকে নিয়ে ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু একের পর এক অসুস্থতার ছোবলে পুরো পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

হেলাল উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় আমার শারীরিক নানা জটিলতা। এক সময় পুরো পেট ফুলে যায়, যার জন্য কোনো খাবারই খেতে পারতাম না। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান- আমার পেটে বড় ধরনের টিউমার হয়েছে। এ জন্য ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। এরপর ২০২৪ সালের শেষের দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেলে (পিজি) যাই। সেখানে পুনরায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, আমার পেটে বড় ধরনের টিউমার রয়েছে এবং সেই টিউমারের কারণে খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তারপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে নিজের জমানো টাকা ও ধারদেনা করে পিজি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাই। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার পেট থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কেজি ওজনের একটি টিউমার বের করা হয়।

তিনি আরও জানান, এরপর চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে নিজের ঘরভিটা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দিই। পাশাপাশি মানুষের সহযোগিতা এবং ধারদেনার টাকায় শুরু করি ক্যান্সারের চিকিৎসা। এ পর্যন্ত আমার চিকিৎসায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এরপর কোনো উপায় না পেয়ে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে যখন ঘরভিটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিই তখন একজন মানবিক মানুষ আমার পাশে দাঁড়ান। তিনি আর্থিকভাবে অনেকটা সহযোগিতা করেছেন। তবে বারোটি থেরাপি নেওয়ার কথা থাকলেও নয়টি থেরাপি নেওয়ার পরই নতুন বিপদ নেমে আসে আমার পরিবারে। আমার স্ত্রী ময়না বেগম (৪০) ব্রেন স্ট্রোক করেন। এতে তার ডান পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর একে একে স্ট্রোক করেন আমার বাবা সাহেব আলী (৭৫) ও মা হামেলা খাতুন (৭০)। বর্তমানে আমার স্ত্রী ময়না, বাবা সাহেব আলী ও মা হামেলা খাতুনসহ পরিবারের সবাই অসুস্থ। মা হামেলা খাতুন এতটাই অসুস্থ যে, অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। আর বাবা সাহেব আলীর হাত-পা অবশ হয়ে তিনি ঘরেই পড়ে থাকেন। নিজেও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছি। অথচ নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বও আমার কাঁধে। বর্তমানে বাড়ির সামনে একটি ছোট মুদি দোকান দিয়ে ওই দোকানের সামান্য আয়েই কোনো রকমে সংসার চলছে।
হেলাল আরও জানান, একটি পরিবারের সবাই অসুস্থ হলে ওই পরিবারটির কী করুণ পরিস্থিতি হয় তা মানুষের চেয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই ভালো জানেন। টাকার অভাবে এখন কারওই চিকিৎসা চলছে না। তাই আমি দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, দেশ-বিদেশের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষ এবং মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আমার পুরো পরিবারের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি। সবার সহায়তায় চিকিৎসা নিয়ে আমরা বাঁচতে চাই। সামর্থ্যবান কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আবারও চিকিৎসার সুযোগ মিলবে আমার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। আমাদের চিকিৎসায় কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭৩২১৮৪৯০৬ (বিকাশ ব্যক্তিগত) নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ রইলো।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, ওই পরিবারের পক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে ও তার স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এছাড়া হেলালের বাবা-মা বর্তমানে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন।