ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
এখনো ভালো হয়নি লালমোহন হাসপাতালের সেকমো আবুল! ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভা শ্রীনগরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ  উপলক্ষে র‌্যালি লালমোহনে দুদক এর উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠিত, মাহবুবুর রহমান সভাপতি- জহিরুল ইসলাম সাঃ সম্পাদক লালমোহনে বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো সোহরাওয়ার্দী কলেজ হিসাববিজ্ঞান অ্যাসোসিয়েশন লালমোহনে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন সংবাদ সম্মেলনে লালমোহনে ভূমিহীনদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ লালমোহনে জমি বিরোধের জের ধরে প্রধান শিক্ষককে কুপিয়ে আহত

অসুস্থ ছেলেকে বাচাঁতে সকলের সহায়তা চান অসহায় পিতা

নাজমুল খান সুজন
  • আপডেট : ১০:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধুচন্দা হলরোডের বাসিন্দা রিপন চন্দ্র শীল। বিগত ৩০ বছর ধরে পৌরশহরের একটি স্যালুনে নরসুন্দর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। সেখান থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা উপার্জনে কোনো রকমে চলে তার সংসার। রিপন চন্দ্র শীলের সংসারে রয়েছে স্ত্রীসহ এক ছেলে, এক মেয়ে। তবে হঠাৎ করেই তার একমাত্র ছেলের অসুস্থতায় সব যেন এলোমেলো হয়ে যায় রিপনের। তার ১৬ বছর বয়সী নিরব চন্দ্র সিংহ নামে ওই ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ছিল। তবে অসুস্থ্য হওয়ার পর থেকে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ভর্তি রয়েছেন রিপন চন্দ্র শীল। ছেলের চিকিৎসায় এরইমধ্যে ধার-দেনা আর মানুষের সহযোগিতায় ব্যয় হয়ে গেছে লক্ষাধিক টাকা। ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহণ করতে গিয়ে এখন রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসহায় রিপন চন্দ্র শীল।
তিনি জানান, গত ৯ মার্চ হঠাৎ করে আমার ছেলের প্রচন্ড মাথা ব্যথা, জ্বর ও বমি শুরু হয়। এরপর তাকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। তখন ছেলের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাসায় নিয়ে যাই। তবে একদিনের মাথায় আবারও আগের সমস্যা দেখা দেয়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যাই। সেখানে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ভর্তি করি। সেখানে ছেলেকে পরীক্ষায়-নিরীক্ষা করানোর পর ব্রেইন স্ট্রোকের পাশাপাশি ধরা পড়েছে টিবি রোগও। বর্তমানে আমার ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালের ৭ তলার ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিসিন বিভাগের ৬ নম্বর রুমের ৩১ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছে। আমি মানুষের চুল-দাঁড়ি কেটে কিছু টাকা উপার্জন করে সংসার চালাই। বর্তমানে ছেলের এমন অসুস্থতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। নিজের কোনো সঞ্চয় নেই। প্রথম থেকেই মানুষের থেকে ধার-দেনা আর সহযোগিতা নিয়ে ছেলের চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর পারছি না।
অসহায় রিপন চন্দ্র শীল আরও জানান, আমার ছেলেটা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতো। তবে ভাগ্যের নিমর্ম পরিহাসের কারণে তা আর হয়নি। তার সহপাঠীরা নিয়মিত পরীক্ষা দিলেও আমার একমাত্র ছেলেটা এখন হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। এই ছেলেকে নিয়ে বহু স্বপ্ন ছিল আমার। তবে তার অসুস্থতার কারণে এখন সব স্বপ্নই ভেঙে যাচ্ছে। ছেলেকে সুস্থ্য করতে দরকার আরও টাকা। চিকিৎসক বলেছেন আমার ছেলেকে সুস্থ্য করে তুলতে দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা করাতে হবে। এরইমধ্যে মানুষের থেকে অনেক ধার-দেনা করে ফেলেছি। বাকি চিকিৎসা কিভাবে করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না। তাই ছেলেকে ঢাকায় হাসপাতালে রেখে এলাকায় এসে বাজারের বিভিন্ন দোকানদার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে সহযোগিতা তুলছি। এতে আমাকে স্থানীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষার্থী ও তরুণ-যুবকরা সহযোগিতা করছেন। তারা মিলেই গত কয়েকদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ছেলের সুস্থতার জন্য সহযোগিতা তুলছি। জানি না এতে কতটুকু কী হবে। তবে আমি চাই সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় আমার একমাত্র ছেলে আবারও সুস্থ্য হয়ে নিয়মিত পড়ালেখা করবে। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩০৬৯৯৮১৪৫ (বিকাশ-নগদ) এই নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।
শিক্ষার্থী রাহাত হাসান রুমি ও মো. জুনায়েদ বলেন, রিপন চন্দ্র শীল সত্যিই অনেক অসহায়। তার একমাত্র ছেলে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন। ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহণ করতে গিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রিপন চন্দ্র শীল। তাই আমরা কয়েকজন মিলে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পথচারীদের কাছ থেকে সহযোগিতা তোলার চেষ্টা করছি। এতে করে কিছুটা হলেও তার উপকার হবে। তবে তার মেধাবী ছেলের দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলকে মানবিক দিক বিবেচনা করে নিজ নিজ স্থান থেকে অসহায় রিপন চন্দ্র শীলকে আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা চাই; রিপন চন্দ্র শীলের মেধাবী ছেলেটা সুস্থ্য হয়ে আবারও সুন্দরভাবে পড়ালেখা করুক।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, ওই ব্যক্তি তার ছেলের অসুস্থতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে তাকে সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

অসুস্থ ছেলেকে বাচাঁতে সকলের সহায়তা চান অসহায় পিতা

আপডেট : ১০:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধুচন্দা হলরোডের বাসিন্দা রিপন চন্দ্র শীল। বিগত ৩০ বছর ধরে পৌরশহরের একটি স্যালুনে নরসুন্দর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। সেখান থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা উপার্জনে কোনো রকমে চলে তার সংসার। রিপন চন্দ্র শীলের সংসারে রয়েছে স্ত্রীসহ এক ছেলে, এক মেয়ে। তবে হঠাৎ করেই তার একমাত্র ছেলের অসুস্থতায় সব যেন এলোমেলো হয়ে যায় রিপনের। তার ১৬ বছর বয়সী নিরব চন্দ্র সিংহ নামে ওই ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ছিল। তবে অসুস্থ্য হওয়ার পর থেকে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ভর্তি রয়েছেন রিপন চন্দ্র শীল। ছেলের চিকিৎসায় এরইমধ্যে ধার-দেনা আর মানুষের সহযোগিতায় ব্যয় হয়ে গেছে লক্ষাধিক টাকা। ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহণ করতে গিয়ে এখন রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসহায় রিপন চন্দ্র শীল।
তিনি জানান, গত ৯ মার্চ হঠাৎ করে আমার ছেলের প্রচন্ড মাথা ব্যথা, জ্বর ও বমি শুরু হয়। এরপর তাকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। তখন ছেলের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাসায় নিয়ে যাই। তবে একদিনের মাথায় আবারও আগের সমস্যা দেখা দেয়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যাই। সেখানে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ভর্তি করি। সেখানে ছেলেকে পরীক্ষায়-নিরীক্ষা করানোর পর ব্রেইন স্ট্রোকের পাশাপাশি ধরা পড়েছে টিবি রোগও। বর্তমানে আমার ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালের ৭ তলার ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিসিন বিভাগের ৬ নম্বর রুমের ৩১ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছে। আমি মানুষের চুল-দাঁড়ি কেটে কিছু টাকা উপার্জন করে সংসার চালাই। বর্তমানে ছেলের এমন অসুস্থতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। নিজের কোনো সঞ্চয় নেই। প্রথম থেকেই মানুষের থেকে ধার-দেনা আর সহযোগিতা নিয়ে ছেলের চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর পারছি না।
অসহায় রিপন চন্দ্র শীল আরও জানান, আমার ছেলেটা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতো। তবে ভাগ্যের নিমর্ম পরিহাসের কারণে তা আর হয়নি। তার সহপাঠীরা নিয়মিত পরীক্ষা দিলেও আমার একমাত্র ছেলেটা এখন হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। এই ছেলেকে নিয়ে বহু স্বপ্ন ছিল আমার। তবে তার অসুস্থতার কারণে এখন সব স্বপ্নই ভেঙে যাচ্ছে। ছেলেকে সুস্থ্য করতে দরকার আরও টাকা। চিকিৎসক বলেছেন আমার ছেলেকে সুস্থ্য করে তুলতে দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা করাতে হবে। এরইমধ্যে মানুষের থেকে অনেক ধার-দেনা করে ফেলেছি। বাকি চিকিৎসা কিভাবে করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না। তাই ছেলেকে ঢাকায় হাসপাতালে রেখে এলাকায় এসে বাজারের বিভিন্ন দোকানদার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে সহযোগিতা তুলছি। এতে আমাকে স্থানীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষার্থী ও তরুণ-যুবকরা সহযোগিতা করছেন। তারা মিলেই গত কয়েকদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ছেলের সুস্থতার জন্য সহযোগিতা তুলছি। জানি না এতে কতটুকু কী হবে। তবে আমি চাই সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় আমার একমাত্র ছেলে আবারও সুস্থ্য হয়ে নিয়মিত পড়ালেখা করবে। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩০৬৯৯৮১৪৫ (বিকাশ-নগদ) এই নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।
শিক্ষার্থী রাহাত হাসান রুমি ও মো. জুনায়েদ বলেন, রিপন চন্দ্র শীল সত্যিই অনেক অসহায়। তার একমাত্র ছেলে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন। ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহণ করতে গিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রিপন চন্দ্র শীল। তাই আমরা কয়েকজন মিলে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পথচারীদের কাছ থেকে সহযোগিতা তোলার চেষ্টা করছি। এতে করে কিছুটা হলেও তার উপকার হবে। তবে তার মেধাবী ছেলের দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলকে মানবিক দিক বিবেচনা করে নিজ নিজ স্থান থেকে অসহায় রিপন চন্দ্র শীলকে আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা চাই; রিপন চন্দ্র শীলের মেধাবী ছেলেটা সুস্থ্য হয়ে আবারও সুন্দরভাবে পড়ালেখা করুক।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, ওই ব্যক্তি তার ছেলের অসুস্থতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে তাকে সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।