ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
মা দিবসে ভালোবাসার উচ্চারণ মা, এক যাদুকরী শব্দ মাতুয়াইলের আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিলেন সোহরাওয়ার্দী কলেজের রোভার স্কাউট সদস্য -ইপ্তি চরফ্যাশনে চার্চ অব বাংলাদেশ কলোনীর কবরস্থান, শ্মশান ও টিউবওয়েল দখলের অভিযোগ লালমোহনে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, থানায় জিডি লালমোহনে খাল খননের মাটি রাস্তার পাশে ও খালের পাড়ে ফেলায় জনদুর্ভোগ আপনার সামান্য সহায়তাই পারে একটি শিশুর পঙ্গুত্ব জীবন থেকে ফেরাতে পারে লালমোহনে নারিকেল পাড়া নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ৪ ঢাকাস্থ লালমোহন থানা জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের আহবায়ক কমিটি গঠন দক্ষিণ আইচায় স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত লালমোহনে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল টুনামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

মা দিবসে ভালোবাসার উচ্চারণ মা, এক যাদুকরী শব্দ

নাজমুল খান সুজন
  • আপডেট : ০৩:৫১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিবেদক

মা শব্দে লুকিয়ে থাকে পুরো একটা পৃথিবী। ‘মা’ কেবল একটি শব্দ নয়, বরং ভালোবাসা, মমতা, ত্যাগ ও সুরক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক। তিনি হলেন জন্মদাত্রী বা গর্ভধারিণী, যিনি সন্তানকে পৃথিবীতে আনেন, নিঃস্বার্থভাবে বড় করে তোলেন এবং আজীবন ছায়ার মতো আগলে রাখেন।

এই পবিত্র ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে প্রতিবছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার উদযাপিত হয় “বিশ্ব মা দিবস”।

মা দিবসের সূচনা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন আনা জার্ভিস (Anna Jarvis)। ১৯০৮ সালে তিনি তাঁর প্রয়াত মায়ের সম্মানে প্রথম মা দিবস উদযাপন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘যার মা আছে, সে কখনোই গরিব নয়’। ‘মা’ শব্দটি ছোট্ট হলেও তিনি সীমার মাঝে অসীম। সাগরের তলদেশের গভীরতা মাপা গেলেও মায়ের ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতা মাপা যায় না। মা সন্তানকে তাঁর সব ভালোবাসা দিয়ে লালনপালন করেন, বড় করেন। জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে কেউ পাশে না থাকলেও সর্বদা পাশে থাকেন মা। মা মানে যাদু, সকল খুশি-আনন্দ।

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান মুন বলেন, আমার আম্মু অনেক ভালো মানুষ। সে আমাদের স্নেহ করে, ভালবাসে ও আদর করে। আমাদের পড়ালেখার পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। আমার জীবনে আম্মু খুব গুরুত্বপূর্ণ। মা দিবসের জন্য আম্মুকে ফুল এনে দিবো।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইমুনা হক রুশরা বলে, মা আমাদের জীবনের এমন একটি অংশ যা ছাড়া আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ। মা আমাদের যতই বকাঝকা করুক তা করে আমাদের ভালোর জন্য। মা আমাদের যেরকম ভাবে ভালবাসে তার মধ্যে কোন স্বার্থ থাকে না, নিঃস্বার্থ ভালোবাসে। মা দিবস উপলক্ষে আমি মাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো এবং মাজার মজার খাবার খাবো।

দিনমজুর সাকিব হোসেন অপূর্ব বলেন, আমার তো ‘মা’ নাই, আমি জানি না “মা দিবস” কেমন। আমার কাছে প্রতিদিন মা দিবস। আমি যখন ছোট তখন আমার মা মইরা গেছে। কত মানুষরে দেখি মায়ের কাছে মর্জি করে কিন্তু আমার তো কেউ নাই, আমি কার কাছে কমু? নামাজ পইড়া দোয়া করি মা যেনো জান্নাত ফেরদৌস পায়।

প্রবাসি হাসিব ইসলাম হৃদয় বলেন, প্রবাসের এই যান্ত্রিক জীবনে প্রতিটি দিনই একাকীত্বের, কিন্তু আজকের দিনটা যেন একটু বেশিই ভারি। আজ বিশ্ব মা দিবস অথচ আমি আমার মায়ের থেকে হাজার মাইল দূরে।

মায়ের হাতের এক লোকমা গরম ভাতের স্বাদ পৃথিবীর কোনো দামী রেস্টুরেন্ট দিতে পারে না। অসুস্থ হলে যখন কপালে হাত রাখার কেউ থাকে না, তখন সবচাইতে বেশি মায়ের অভাব অনুভব করি। মায়ের সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর একটুখানি পরম মমতা।

​মা শুধু আমার জন্মদাত্রী নয় আমার পুরো পৃথিবী। আমার প্রতিটি সাফল্যে মায়ের দোয়া আর প্রতিটি ব্যর্থতায় মায়ের সাহস মিশে আছে।

 

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল হালিম বলেন, আমরা মা দিবস বুঝি না আমাদের সময় মা দিবস ছিল না। আমার যখন জ্বর হতো তখন মা আমারে জ্বরপট্টি দিয়া দিতো আমি ভালো হয়ে যেতাম। মা’য়ে না খাইয়া আমাগো তিন ভাই-বোনরে খাওয়াইতো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

মা দিবসে ভালোবাসার উচ্চারণ মা, এক যাদুকরী শব্দ

আপডেট : ০৩:৫১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিবেদক

মা শব্দে লুকিয়ে থাকে পুরো একটা পৃথিবী। ‘মা’ কেবল একটি শব্দ নয়, বরং ভালোবাসা, মমতা, ত্যাগ ও সুরক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক। তিনি হলেন জন্মদাত্রী বা গর্ভধারিণী, যিনি সন্তানকে পৃথিবীতে আনেন, নিঃস্বার্থভাবে বড় করে তোলেন এবং আজীবন ছায়ার মতো আগলে রাখেন।

এই পবিত্র ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে প্রতিবছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার উদযাপিত হয় “বিশ্ব মা দিবস”।

মা দিবসের সূচনা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন আনা জার্ভিস (Anna Jarvis)। ১৯০৮ সালে তিনি তাঁর প্রয়াত মায়ের সম্মানে প্রথম মা দিবস উদযাপন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘যার মা আছে, সে কখনোই গরিব নয়’। ‘মা’ শব্দটি ছোট্ট হলেও তিনি সীমার মাঝে অসীম। সাগরের তলদেশের গভীরতা মাপা গেলেও মায়ের ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতা মাপা যায় না। মা সন্তানকে তাঁর সব ভালোবাসা দিয়ে লালনপালন করেন, বড় করেন। জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে কেউ পাশে না থাকলেও সর্বদা পাশে থাকেন মা। মা মানে যাদু, সকল খুশি-আনন্দ।

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান মুন বলেন, আমার আম্মু অনেক ভালো মানুষ। সে আমাদের স্নেহ করে, ভালবাসে ও আদর করে। আমাদের পড়ালেখার পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। আমার জীবনে আম্মু খুব গুরুত্বপূর্ণ। মা দিবসের জন্য আম্মুকে ফুল এনে দিবো।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইমুনা হক রুশরা বলে, মা আমাদের জীবনের এমন একটি অংশ যা ছাড়া আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ। মা আমাদের যতই বকাঝকা করুক তা করে আমাদের ভালোর জন্য। মা আমাদের যেরকম ভাবে ভালবাসে তার মধ্যে কোন স্বার্থ থাকে না, নিঃস্বার্থ ভালোবাসে। মা দিবস উপলক্ষে আমি মাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো এবং মাজার মজার খাবার খাবো।

দিনমজুর সাকিব হোসেন অপূর্ব বলেন, আমার তো ‘মা’ নাই, আমি জানি না “মা দিবস” কেমন। আমার কাছে প্রতিদিন মা দিবস। আমি যখন ছোট তখন আমার মা মইরা গেছে। কত মানুষরে দেখি মায়ের কাছে মর্জি করে কিন্তু আমার তো কেউ নাই, আমি কার কাছে কমু? নামাজ পইড়া দোয়া করি মা যেনো জান্নাত ফেরদৌস পায়।

প্রবাসি হাসিব ইসলাম হৃদয় বলেন, প্রবাসের এই যান্ত্রিক জীবনে প্রতিটি দিনই একাকীত্বের, কিন্তু আজকের দিনটা যেন একটু বেশিই ভারি। আজ বিশ্ব মা দিবস অথচ আমি আমার মায়ের থেকে হাজার মাইল দূরে।

মায়ের হাতের এক লোকমা গরম ভাতের স্বাদ পৃথিবীর কোনো দামী রেস্টুরেন্ট দিতে পারে না। অসুস্থ হলে যখন কপালে হাত রাখার কেউ থাকে না, তখন সবচাইতে বেশি মায়ের অভাব অনুভব করি। মায়ের সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর একটুখানি পরম মমতা।

​মা শুধু আমার জন্মদাত্রী নয় আমার পুরো পৃথিবী। আমার প্রতিটি সাফল্যে মায়ের দোয়া আর প্রতিটি ব্যর্থতায় মায়ের সাহস মিশে আছে।

 

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল হালিম বলেন, আমরা মা দিবস বুঝি না আমাদের সময় মা দিবস ছিল না। আমার যখন জ্বর হতো তখন মা আমারে জ্বরপট্টি দিয়া দিতো আমি ভালো হয়ে যেতাম। মা’য়ে না খাইয়া আমাগো তিন ভাই-বোনরে খাওয়াইতো।