কমন বিষয়ের ক্লাসে বাড়তি শিক্ষার্থী, চাপে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শ্রেণিকক্ষ
- আপডেট : ১২:০০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২৩ বার পড়া হয়েছে
সুরাইয়া তাসনিম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে কমন বিষয়ের ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
একই শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস হওয়ায় অনেক সময় কক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। এতে বসার জায়গার সংকট, অতিরিক্ত গরম, গাদাগাদি করে ক্লাস করা এবং পেছনের সারি থেকে শিক্ষকের বক্তব্য শুনতে না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন কমন বিষয়ের ক্লাস একই শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে একসঙ্গে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় ছোট শ্রেণিকক্ষগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসাইন বলেন, আমাদের শ্রেণিকক্ষটি অনেক ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে। কক্ষটি ছোট হওয়ায় গরমের সময় ভেতরে অনেক বেশি গরম লাগে। আমাদের যদি বড় শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে পাঠদানের পরিবেশ অনেক ভালো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে অনেক সময় বসার জায়গা না থাকায় দাঁড়িয়েও ক্লাস করতে হয়। ফ্যানগুলো থেকেও পর্যাপ্ত বাতাস পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত গরমের মধ্যে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় পেছনের সারি থেকে অনেক সময় শিক্ষকের কথাও ঠিকমতো শোনা যায় না।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের এমন পরিস্থিতি দেখে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ক্লাসে ঢুকতেও চায় না। তারা বাইরে ঘোরাঘুরি করে বা অন্যভাবে সময় কাটায়। এতে পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ও অযথা নষ্ট হচ্ছে।
মানবিক বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান (শান্ত) বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, সমাধান চাই। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ক্লাসরুম সংকট নিরসন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
এদিকে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য পৃথক রুটিন অনুযায়ী আলাদাভাবে ক্লাস নেওয়া হবে। এতে কমন বিষয়ের ক্লাসে একসঙ্গে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমবে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের চাপও কমবে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, পৃথক রুটিনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ক্লাসের ধরন বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে পাঠদানের পরিবেশ আরও স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব হবে।












