ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
শ্রীনগরে বন্ধু মহলের ঈদ পুনর্মিলনী ডাঃ আজাহার উদ্দিন মাঃ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরার উদ্বোধন গাজীপুরে সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু’র উপর সন্ত্রাসী হামলা লালমোহনে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নাগরিক সংবর্ধনা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় লালমোহনে আন্তঃজেলা মাদক ও জাল টাকার ব্যবসায়ী আটক লালমোহন হাফিজিয়া মাদ্রাসার নির্মানাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করায় বিপাকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন সোহরাওয়ার্দী কলেজে লালমোহনে হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

লালমোহনে কিশোরী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

নাজমুল খান সুজন
  • আপডেট : ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহনে পারিবারিক কলহের জেরে কিশোরী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ রুনা (১৭)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদ (২১) ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত রুনা ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত জিহাদ পার্শ্ববর্তী পাংগাশিয়া গ্রামের মৃত মো. রফিকের ছেলে। রুনা ও জাহিদ মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক ভাবে প্রায় ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়।

 

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ঘটনা দিন রুনার মা (জিহাদের ফুফু) পারিবারিক একটি সালিশের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা অবস্থান করছিল তার বাবার বাড়িতে, আর জিহাদ ছিলেন নিজ বাড়িতে।

 

 

সালিশের পরপরই জিহাদ শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এরপর ঘটনা পর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান স্বামী জিহাদ।ঘটনার সময় রুনার চাচি ও প্রত্যক্ষদর্শী নুরু জাহান বেগম জানান, সন্ধ্যার দিকে রুনার ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে তিনি সেখানে যান। ঘরে ঢুকে দেখেন, রুনা বিছানায় পড়ে আছে, তার বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা এবং শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা।

 

 

 

অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে কম্বল সরালে দেখা যায়, রুনার গলায় নখের আঁচড়ের দাগ, রুপার চেইন ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং বিছানা প্রস্রাবে ভিজে গেছে। তার মুখে লালা ও রক্তও দেখা যায়।

 

 

পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই জিহাদ বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। রুনার মৃত্যুর পর তাকে একাধিকবার ফোন করা হলে সে অসংলগ্ন ও উল্টো-পাল্টা মন্তব্য করতে থাকে, যা তার আচরণকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।

 

খবর পেয়ে লালমোহন সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর হয় । অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মধ্যরাতে ভোলা থেকে র্যা ব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় । এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

লালমোহনে কিশোরী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহনে পারিবারিক কলহের জেরে কিশোরী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ রুনা (১৭)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদ (২১) ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত রুনা ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত জিহাদ পার্শ্ববর্তী পাংগাশিয়া গ্রামের মৃত মো. রফিকের ছেলে। রুনা ও জাহিদ মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক ভাবে প্রায় ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়।

 

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ঘটনা দিন রুনার মা (জিহাদের ফুফু) পারিবারিক একটি সালিশের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা অবস্থান করছিল তার বাবার বাড়িতে, আর জিহাদ ছিলেন নিজ বাড়িতে।

 

 

সালিশের পরপরই জিহাদ শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এরপর ঘটনা পর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান স্বামী জিহাদ।ঘটনার সময় রুনার চাচি ও প্রত্যক্ষদর্শী নুরু জাহান বেগম জানান, সন্ধ্যার দিকে রুনার ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে তিনি সেখানে যান। ঘরে ঢুকে দেখেন, রুনা বিছানায় পড়ে আছে, তার বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা এবং শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা।

 

 

 

অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে কম্বল সরালে দেখা যায়, রুনার গলায় নখের আঁচড়ের দাগ, রুপার চেইন ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং বিছানা প্রস্রাবে ভিজে গেছে। তার মুখে লালা ও রক্তও দেখা যায়।

 

 

পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই জিহাদ বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। রুনার মৃত্যুর পর তাকে একাধিকবার ফোন করা হলে সে অসংলগ্ন ও উল্টো-পাল্টা মন্তব্য করতে থাকে, যা তার আচরণকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।

 

খবর পেয়ে লালমোহন সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর হয় । অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মধ্যরাতে ভোলা থেকে র্যা ব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় । এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।