ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট দেন লালমোহন হাসপাতালের পিয়ন মহসিন শ্রীনগরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি আব্দুল্লাহ লালমোহনে ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ক অবহিতকরণ সভা ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিলন হাওলাদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা মেরামত ব্যারিস্টার হলেন লালমোহনের কৃতি সন্তান মনিরুল ইসলাম লালমোহনে বাস চাপায় শিশু নিহত ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষকের পাশে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি লালমোহন যুব রেড ক্রিসেন্টের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল লালমোহনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো ভক্তের উল্টো রথযাত্রা

লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ !

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৪:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৭৭৩ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাহিদ দুলাল, জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
নাম তার ঢোল কলমি। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে বেদমা গাছ, অনেকে আবার বেড়াগাছ বা বেড়ালতাও বলে। একসময় ভোলার লালমোহনের প্রায় সকল রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলের ধারে সর্বত্রই একসময় চোখে পড়ত এ গাছিটি। গ্রামে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি। ঢোল কলমি গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এই গাছটি এখন লালমোহনে বিলুপ্তির পথে।

 

 

 

অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি বা বেদমা গাছের ফুল যেকোন বয়েসি মানুষের নজর কাড়বে। পাঁচটি হালকা বেগুনি পাপড়ির ফুল দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। একটি মঞ্জরিতে চার থেকে আটটি ফুল থাকে।

 

 

এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়। এ গাছ জমির ক্ষয়রোধ করে ও সুন্দর ফুল দেয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। নদীর তীরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোল কলমি জন্মে পাখির বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। ফুলের মধু সংগ্রহ করতে কালো ভোমরার আনাগোনা দেখা যায়। গ্রামের শিশুরা ঢোলকলমির ফুল দিয়ে খেলা করে।

 

 

 

৯০ দশকের দিকে পোকার ভয়ে এ গাছ ধ্বংস করার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। দেশজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ঢোলকলমি গাছে থাকা একধরনের পোকা। গুজব রটে যায়, এই পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এরপর আতঙ্কে সকলে দিলে গণহারে ঢোলকলমি গাছ কেটে সাবার করেছিল। এখনো গ্রামাঞ্চলে কিছু ঢোল কলমি দেখা যায়।

 

 

 

লালমোহন উপজেলার চরভূতা ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কয়েকজন বৃদ্ধ জামান (৭৫), ইউসুফ (৬০), হাসান (৫৫) বলেন, ডোল কলমি গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। এই গাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের এ অঞ্চলের প্রায় মানুষই নতুন বাড়ী করলে এই বন্য গাছটি লাগাতো। এই গাছ গরু ছাগলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং বাড়ির বেড়া হিসেবে চারপাশে চারপাশে লাগানো হতো। কোন রকম যত্ন ছাড়াই এই গাছ বেড়ে উঠত। এই গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ !

আপডেট : ০৪:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

জাহিদ দুলাল, জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
নাম তার ঢোল কলমি। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে বেদমা গাছ, অনেকে আবার বেড়াগাছ বা বেড়ালতাও বলে। একসময় ভোলার লালমোহনের প্রায় সকল রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলের ধারে সর্বত্রই একসময় চোখে পড়ত এ গাছিটি। গ্রামে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি। ঢোল কলমি গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এই গাছটি এখন লালমোহনে বিলুপ্তির পথে।

 

 

 

অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি বা বেদমা গাছের ফুল যেকোন বয়েসি মানুষের নজর কাড়বে। পাঁচটি হালকা বেগুনি পাপড়ির ফুল দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। একটি মঞ্জরিতে চার থেকে আটটি ফুল থাকে।

 

 

এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়। এ গাছ জমির ক্ষয়রোধ করে ও সুন্দর ফুল দেয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। নদীর তীরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোল কলমি জন্মে পাখির বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। ফুলের মধু সংগ্রহ করতে কালো ভোমরার আনাগোনা দেখা যায়। গ্রামের শিশুরা ঢোলকলমির ফুল দিয়ে খেলা করে।

 

 

 

৯০ দশকের দিকে পোকার ভয়ে এ গাছ ধ্বংস করার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। দেশজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ঢোলকলমি গাছে থাকা একধরনের পোকা। গুজব রটে যায়, এই পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এরপর আতঙ্কে সকলে দিলে গণহারে ঢোলকলমি গাছ কেটে সাবার করেছিল। এখনো গ্রামাঞ্চলে কিছু ঢোল কলমি দেখা যায়।

 

 

 

লালমোহন উপজেলার চরভূতা ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কয়েকজন বৃদ্ধ জামান (৭৫), ইউসুফ (৬০), হাসান (৫৫) বলেন, ডোল কলমি গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। এই গাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের এ অঞ্চলের প্রায় মানুষই নতুন বাড়ী করলে এই বন্য গাছটি লাগাতো। এই গাছ গরু ছাগলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং বাড়ির বেড়া হিসেবে চারপাশে চারপাশে লাগানো হতো। কোন রকম যত্ন ছাড়াই এই গাছ বেড়ে উঠত। এই গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।