ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
উপজেলার মেধা তালিকায় ২য় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম লালমোহনে চুরির মিথ্যা অভিযোগে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে লালমোহনের রমাগঞ্জে সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা লালমোহনে কাভার্ড ভ্যানসহ ৯ হাজার লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল জব্দ করেছে পুলিশ লালমোহেন ২৭ টি সয়াবিন তেলের ড্রামসহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক। তেল রেখে পালিয়ে যায় চালক বদলি চান শাহীন নিজেই, আটকে রেখেছে কে? লালমোহন উপজেলা যুবদল সভাপতি কবির হাওলাদারের ছেলে কাইফের জন্মদিন, দোয়া কামনা লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক লালমোহনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষ্যে টাস্কফোর্স কমিটির সভা লালমোহনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

উপজেলার মেধা তালিকায় ২য় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৬:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহন উপজেলার ছেলে মো. ফয়জুল আলম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫ এ অংশগ্রহণ করে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চুড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হন। মেধা তালিকায় উপজেলা পর্যায়ে ২য় হয়েও ভেরিফিকেশেনে বাদ পড়ে গেছেন তিনি।

 

ভোলা জেলাতে মোট ২৫৬ জন চুড়ান্ত ভাবে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে লালমোহনে ৪৩ জন। লালমোহন উপজেলায় শুধুমাত্র মো. ফয়জুল আলম ব্যাতিত সকলেই নিয়োগপত্র পেয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬১ জেলায় ১৪৩৮৪ জন চুড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্ত হয়। প্রথম পর্যায়ে মো. ফয়জুল আলমসহ অনেকের নাম নাম গেজেটে না আসায় এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর এবং বাদ পড়া শিক্ষকগন ঢাকায় আন্দোলন করে ২য় পর্যায়ে বাদপড়াদের নিয়ে পুনঃরায় গেজেট প্রকাশিত হয়। লালমোহন উপজেলার কাগজপত্র জমা দেয়া সকল শিক্ষকের নাম আসলেও মো. ফয়জুল আলমের নাম ২য় পর্যায়ের গেজেটেও আসেনি। তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানতে পেরেছেন ভেরিফেকেশনে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। কোন এক অদৃশ্য রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে ফয়জুল আলমের ক্যারিয়ার এক নিমিষে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মো. ফয়জুল আলম বলেন, আমি চুড়ান্ত ভাবে শুপারিশ প্রাপ্ত হয়েও অজ্ঞাত কারণে আমার নিয়োগপত্র পায়নি। অথচ লালমোহন উপজেলা পর্যায়ে মেধা তালিকায় আমার স্থান ২য়। আমার কাগজপত্রেও কোন সমস্যা নেই। আমি পূর্বে একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতাম। প্রাইমারীতে নিয়োগ হয়েছে এজন্য চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এখানে আমার নিয়োগপত্র আসেনি। বর্তমানে আমি বেকার অবস্থায় থেকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। পরিবারে আমার স্ত্রী, সন্তান, মা, বাবা ও ভাই বোন রয়েছেন। আমি একজন অসহায় ও গরিব পরিবারের সন্তান। এর আগে আমি তিনবার প্রাইমারিতে পরীক্ষা দিয়ে রিটেন ও ভাইভায় অংশগ্রহণ করেও চুড়ান্ত ভাবে নিয়োগ পাইনি। তখন আপসোস ছিলো না। এবার চুড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েও ভেরিফেকেশনের বেড়াজালে আটকে আমাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। আমার সরকারি চাকুরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে। এখন বর্তমানে বেকার অবস্থায় রয়েছি।

 

 

মো. ফয়জুল আলম আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই। চুড়ান্ত ভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ার পরও যদি মেধার মূল্যায়ন না করে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হয়, তবে আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের এত কষ্ট করে পড়াশোনা ও চাকুরীর জন্য প্রন্তুতি নেয়া বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না।

আমি বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি । যাতে আমার নাম গেজেটে অন্তর্ভূক্ত করে আমার নিয়োগ পত্র দেয়া হয়। আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

এ ব্যাপারে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ভোলা জেলাতে লালমোহনের একজনসহ মোট ৪জন শিক্ষক বাদ পড়েছে। এই ৪জন শিক্ষেকের ডকুমেন্টসহ অধিদপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছি। অধিদপ্তর থেকে এদের ব্যাপারে যে সিদ্বান্ত দিবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

উপজেলার মেধা তালিকায় ২য় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম

আপডেট : ০৬:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি (ভোলা):
ভোলার লালমোহন উপজেলার ছেলে মো. ফয়জুল আলম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫ এ অংশগ্রহণ করে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চুড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হন। মেধা তালিকায় উপজেলা পর্যায়ে ২য় হয়েও ভেরিফিকেশেনে বাদ পড়ে গেছেন তিনি।

 

ভোলা জেলাতে মোট ২৫৬ জন চুড়ান্ত ভাবে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে লালমোহনে ৪৩ জন। লালমোহন উপজেলায় শুধুমাত্র মো. ফয়জুল আলম ব্যাতিত সকলেই নিয়োগপত্র পেয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬১ জেলায় ১৪৩৮৪ জন চুড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্ত হয়। প্রথম পর্যায়ে মো. ফয়জুল আলমসহ অনেকের নাম নাম গেজেটে না আসায় এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর এবং বাদ পড়া শিক্ষকগন ঢাকায় আন্দোলন করে ২য় পর্যায়ে বাদপড়াদের নিয়ে পুনঃরায় গেজেট প্রকাশিত হয়। লালমোহন উপজেলার কাগজপত্র জমা দেয়া সকল শিক্ষকের নাম আসলেও মো. ফয়জুল আলমের নাম ২য় পর্যায়ের গেজেটেও আসেনি। তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানতে পেরেছেন ভেরিফেকেশনে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। কোন এক অদৃশ্য রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে ফয়জুল আলমের ক্যারিয়ার এক নিমিষে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মো. ফয়জুল আলম বলেন, আমি চুড়ান্ত ভাবে শুপারিশ প্রাপ্ত হয়েও অজ্ঞাত কারণে আমার নিয়োগপত্র পায়নি। অথচ লালমোহন উপজেলা পর্যায়ে মেধা তালিকায় আমার স্থান ২য়। আমার কাগজপত্রেও কোন সমস্যা নেই। আমি পূর্বে একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতাম। প্রাইমারীতে নিয়োগ হয়েছে এজন্য চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এখানে আমার নিয়োগপত্র আসেনি। বর্তমানে আমি বেকার অবস্থায় থেকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। পরিবারে আমার স্ত্রী, সন্তান, মা, বাবা ও ভাই বোন রয়েছেন। আমি একজন অসহায় ও গরিব পরিবারের সন্তান। এর আগে আমি তিনবার প্রাইমারিতে পরীক্ষা দিয়ে রিটেন ও ভাইভায় অংশগ্রহণ করেও চুড়ান্ত ভাবে নিয়োগ পাইনি। তখন আপসোস ছিলো না। এবার চুড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েও ভেরিফেকেশনের বেড়াজালে আটকে আমাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। আমার সরকারি চাকুরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে। এখন বর্তমানে বেকার অবস্থায় রয়েছি।

 

 

মো. ফয়জুল আলম আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই। চুড়ান্ত ভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ার পরও যদি মেধার মূল্যায়ন না করে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হয়, তবে আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের এত কষ্ট করে পড়াশোনা ও চাকুরীর জন্য প্রন্তুতি নেয়া বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না।

আমি বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি । যাতে আমার নাম গেজেটে অন্তর্ভূক্ত করে আমার নিয়োগ পত্র দেয়া হয়। আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

এ ব্যাপারে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ভোলা জেলাতে লালমোহনের একজনসহ মোট ৪জন শিক্ষক বাদ পড়েছে। এই ৪জন শিক্ষেকের ডকুমেন্টসহ অধিদপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছি। অধিদপ্তর থেকে এদের ব্যাপারে যে সিদ্বান্ত দিবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।