ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
শ্রীনগরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি আব্দুল্লাহ লালমোহনে ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ক অবহিতকরণ সভা ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিলন হাওলাদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা মেরামত ব্যারিস্টার হলেন লালমোহনের কৃতি সন্তান মনিরুল ইসলাম লালমোহনে বাস চাপায় শিশু নিহত ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষকের পাশে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি লালমোহন যুব রেড ক্রিসেন্টের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল লালমোহনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো ভক্তের উল্টো রথযাত্রা হাঁস চুরির দায়ে আটক যুবককে নামাজ পড়িয়ে মুক্তি!

চরফ্যাশনে আটার রুটিতে তাবিজ লিখে পুত্রবধূকে তাড়াতে মরিয়া শাশুড়ী  

চরফ্যাশন প্রতিনিধি
  • আপডেট : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
দীপ্ত বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার চরফ্যাশনে পুত্রবধূকে প্রবাসী ছেলের কাছ থেকে আলাদা করতে আটার রুটিতে তাবিজ লিখে কুকুরকে খাওয়ানের চেষ্টা করেছেন শাহিনুর বেগম (৬৫) নামে এক শাশুড়ী।

এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত শাশুড়ী শাহিনুর বেগম ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত কাঞ্চন হাওলাদার স্ত্রী, প্রবাসী আল-আমীনের মা।

পুত্রবধূ আরজু বেগম চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বারেক মিজির মেয়ে, প্রবাসী আল-আমীনের স্ত্রী।
অভিযোগে আরজু বেগম জানান, গত ১৩ বছর আগে জাহানপুর ইউনিয়নের মৃত কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে আল-আমীনের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে আমার বিয়ে হয়। এরপর আমাদের দুইটি মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তাদের নিয়ে দীর্ঘদিন আমাদের দম্পতি জীবন ভালোই চলছিল। এদিকে আমার স্বামী আল-আমীন গত ৩ বছর আগে টাকা উপার্জন করার জন্য সৌদিতে যান। এরপর থেকেই আল-আমীনের ৪ বোন ও মা শাহিনুর বেগম বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আমাকে গালমন্দ করে আমার স্বামীর বসতভিটা থেকে বিতাড়িত করেন। পরে আমি দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে চলে যাই। বাবার বাড়িতে যাওয়ার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও আমার সাথে আমার স্বামী আল-আমীন ও শাশুড়ী শাহিনুর বেগম কোনো যোগাযোগ, এমনকি দেখতেও যাননি।

অভিযোগে তিনি আরও জানান, গত সোমবার( ৮ জুলাই) বিকালে আমার স্বামীর বাড়ির পাশের স্থানীয়দের মধ্যমে জানতে পারি একটা আটার রুটিতে আমার নাম, আমার বাবার নাম, আমার মায়ের নাম, আমার নানার নাম লিখে কালো কুকুরকে খাওয়ানের চেষ্টা করেন আমার শাশুড়ী । এরপর স্থানীয়রা ওই রুটিটি কুকুরের সামনে থেকে উদ্ধার করে মসজিদের ইমামকে দেখিয়ে তাদের কাছে হেফাজতে রাখেন। পরে আমি ওই রুটিটি একজন খনকারকে দেখালে তিনি জানিয়েছেন যে, আমাকে আমার স্বামীর কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে রুটিতে তাবিজ লিখে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন আমার শাশুড়ী। এঘটনার বিষয়টি আমার স্বামীকে জানালে সে কোনো কর্নপাত করেনি। বর্তমানে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই আল-আমীন ও তার বউ আরজু বেগমের দম্পতি জীবন ভালোই চলছিল। এছাড়াও গৃহবধূ আরজু বেগম এলাকার অন্যান্য বউদের থেকে অনেক ভদ্র। সে এলাকার কারোর সাথে কখনও ঝগড়া বিবাদ করেনি। গৃহবধূ আরজুর স্বামী আল-আমীনের বাবা নেই, মা ও ৪ জন বোন রয়েছে। তারা আল-আমীনের বাড়িতে বেড়াতে এসলেই যে কোনো বিষয়ে নিয়ে গৃহবধূ আরজু বেগমের সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকেন। তখন মেয়েদের পক্ষ নিয়ে আল-আমীন মা পুত্রবধূর সাথে খারাপ আচরণ করেন। তাই হয়তো পুত্রবধূ আরজু বেগমকে বাড়ি ও তার স্বামীর কাছ থেকে  তাড়াতে রুটিতে তাবিজ লিখে কুকুরকে খাওয়ানের চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গৃহবধূ আরজুর বাবা বারেক মিজি ঘটনার বিষয়টি নিয়ে খুবই মর্মাহত। তিনি বলেন, জামাই বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আমার মেয়ে কে আমার জামাই মা ও বোনেরা মিলে অনেক জালা যন্ত্রণা দিয়েছেন ।
এই ঘটনার বিষয়টি নিয়ে আমি আল-আমীন ও তার পরিবারের কাছে সুস্থ সমাধানের আশাবাদী। তা না হলে আমি প্রশাসনের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা নিব।

অভিযুক্ত শাশুড়ী শাহিনুর বেগমের সাথে আলাপ করলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলের বউকে অনেক ভালোবাসি। আমার দুইটি নাতনি রয়েছে। তাদেরকে বাড়ি ফেরাতে আমি খনকারের কাছ থেকে আটার রুটিতে তাবিজ লিখে কুকুরকে খাওয়ানোর চেষ্টা করি। যাতে তারা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে।

এ বিষয়টি জানার জন্য সৌদি প্রবাসী আল-আমীনকে একাধিক বার ফোন দেয়া হলে রিসিভ করেন নাই।

জাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। তবে উভয় পক্ষ আমার কাছে আসলে বিষয়টির সুস্থ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

2

slot gacor

চরফ্যাশনে আটার রুটিতে তাবিজ লিখে পুত্রবধূকে তাড়াতে মরিয়া শাশুড়ী  

আপডেট : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

ভোলার চরফ্যাশনে পুত্রবধূকে প্রবাসী ছেলের কাছ থেকে আলাদা করতে আটার রুটিতে তাবিজ লিখে কুকুরকে খাওয়ানের চেষ্টা করেছেন শাহিনুর বেগম (৬৫) নামে এক শাশুড়ী।

এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত শাশুড়ী শাহিনুর বেগম ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত কাঞ্চন হাওলাদার স্ত্রী, প্রবাসী আল-আমীনের মা।

পুত্রবধূ আরজু বেগম চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বারেক মিজির মেয়ে, প্রবাসী আল-আমীনের স্ত্রী।
অভিযোগে আরজু বেগম জানান, গত ১৩ বছর আগে জাহানপুর ইউনিয়নের মৃত কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে আল-আমীনের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে আমার বিয়ে হয়। এরপর আমাদের দুইটি মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তাদের নিয়ে দীর্ঘদিন আমাদের দম্পতি জীবন ভালোই চলছিল। এদিকে আমার স্বামী আল-আমীন গত ৩ বছর আগে টাকা উপার্জন করার জন্য সৌদিতে যান। এরপর থেকেই আল-আমীনের ৪ বোন ও মা শাহিনুর বেগম বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আমাকে গালমন্দ করে আমার স্বামীর বসতভিটা থেকে বিতাড়িত করেন। পরে আমি দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে চলে যাই। বাবার বাড়িতে যাওয়ার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও আমার সাথে আমার স্বামী আল-আমীন ও শাশুড়ী শাহিনুর বেগম কোনো যোগাযোগ, এমনকি দেখতেও যাননি।

অভিযোগে তিনি আরও জানান, গত সোমবার( ৮ জুলাই) বিকালে আমার স্বামীর বাড়ির পাশের স্থানীয়দের মধ্যমে জানতে পারি একটা আটার রুটিতে আমার নাম, আমার বাবার নাম, আমার মায়ের নাম, আমার নানার নাম লিখে কালো কুকুরকে খাওয়ানের চেষ্টা করেন আমার শাশুড়ী । এরপর স্থানীয়রা ওই রুটিটি কুকুরের সামনে থেকে উদ্ধার করে মসজিদের ইমামকে দেখিয়ে তাদের কাছে হেফাজতে রাখেন। পরে আমি ওই রুটিটি একজন খনকারকে দেখালে তিনি জানিয়েছেন যে, আমাকে আমার স্বামীর কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে রুটিতে তাবিজ লিখে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন আমার শাশুড়ী। এঘটনার বিষয়টি আমার স্বামীকে জানালে সে কোনো কর্নপাত করেনি। বর্তমানে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই আল-আমীন ও তার বউ আরজু বেগমের দম্পতি জীবন ভালোই চলছিল। এছাড়াও গৃহবধূ আরজু বেগম এলাকার অন্যান্য বউদের থেকে অনেক ভদ্র। সে এলাকার কারোর সাথে কখনও ঝগড়া বিবাদ করেনি। গৃহবধূ আরজুর স্বামী আল-আমীনের বাবা নেই, মা ও ৪ জন বোন রয়েছে। তারা আল-আমীনের বাড়িতে বেড়াতে এসলেই যে কোনো বিষয়ে নিয়ে গৃহবধূ আরজু বেগমের সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকেন। তখন মেয়েদের পক্ষ নিয়ে আল-আমীন মা পুত্রবধূর সাথে খারাপ আচরণ করেন। তাই হয়তো পুত্রবধূ আরজু বেগমকে বাড়ি ও তার স্বামীর কাছ থেকে  তাড়াতে রুটিতে তাবিজ লিখে কুকুরকে খাওয়ানের চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গৃহবধূ আরজুর বাবা বারেক মিজি ঘটনার বিষয়টি নিয়ে খুবই মর্মাহত। তিনি বলেন, জামাই বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আমার মেয়ে কে আমার জামাই মা ও বোনেরা মিলে অনেক জালা যন্ত্রণা দিয়েছেন ।
এই ঘটনার বিষয়টি নিয়ে আমি আল-আমীন ও তার পরিবারের কাছে সুস্থ সমাধানের আশাবাদী। তা না হলে আমি প্রশাসনের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা নিব।

অভিযুক্ত শাশুড়ী শাহিনুর বেগমের সাথে আলাপ করলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলের বউকে অনেক ভালোবাসি। আমার দুইটি নাতনি রয়েছে। তাদেরকে বাড়ি ফেরাতে আমি খনকারের কাছ থেকে আটার রুটিতে তাবিজ লিখে কুকুরকে খাওয়ানোর চেষ্টা করি। যাতে তারা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে।

এ বিষয়টি জানার জন্য সৌদি প্রবাসী আল-আমীনকে একাধিক বার ফোন দেয়া হলে রিসিভ করেন নাই।

জাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। তবে উভয় পক্ষ আমার কাছে আসলে বিষয়টির সুস্থ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো।