লৌহজংয়ে পানি বন্দি দুই শতাধিক পরিবার
- আপডেট : ১১:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪ ৮০ বার পড়া হয়েছে
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার জলাবদ্ধতা দুই শতাধিক পরিবার পানি বন্দী জীবন যাপন করছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড পশ্চিম কুমারভোগ গ্ৰাম ও পদ্মা সেতু কনস্ট্রাকশন এয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে তলিয়ে আছে স্থানীয় শতাধিক পরিবারের বসত বাড়ি। এসব পানি জমে থাকে মাসের পর মাস। মানবতর জীবন যাপন করছে এসব পরিবার। মাসের পর মাস পানিবন্দি থাকায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় সেতু কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত ড্রেনের ব্যবস্থার না করার কারণে এখন শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পরেছে। এ ভোগান্তি শুরু হয়েছে প্রায় ১০ বছর। পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুতে কনস্ট্রাকশন এয়ারডের জন্য কুমারভোগের নদীর তীর ঘেষে কয়েকটি গ্রামের বেশ কিছু জমি অধিগ্রহনের আওতা ভুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে অধিগ্রহণ করা জমিতে কনস্ট্রাকশন এয়ার্ড এবং সেতুর মালামাল রাখার ওয়ার্কশপ তৈরি করা হয়। এদিকে কনস্ট্রাকশন এয়ার্ডের পাশে নিচু এলাকায় কুমারভোগ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে শত শত পরিবার বসবাস করে এদের নিয়ে ভাবার কেউ নেই।
সেতু কর্তৃপক্ষ কনস্ট্রাকশন এয়ার্ড নির্মাণ কাজের সময় এই নিচু এলাকার পানি পদ্মা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য পরিকল্পিত কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখেনি। তাই এ গ্রামে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই মুহূর্তে পানি ঢুকছে বসত ঘরের ভেতরে। বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরেই করতে হচ্ছে রান্না থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, বাথরুম সহ সব কাজ। সমস্যায় পড়ছে নারী, শিশু ও বয়স্করা।
এদিকে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পড়েছে এ এলাকাবাসী। এখানকার বেশিরভাগ বিশুদ্ধ খাবার পানির টিউবওয়েল পানির নিচে ডুবে রয়েছ।
এখানে বছরে তিন থেকে চার মাস জলাবদ্ধতা বা পানি আটকে থাকায় পরিবারগুলোর অনেকের বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এলাকাবাসী আরোও জানান ৮ থেকে ১০ জনের মত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হসপিটালে রয়েছেন।
অনেকের শরীরে পানিবাহিত রোগ এবং হাতে পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও আসবাবপত্র।
পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে, মুসল্লিরা মসজিদে ও পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ক্রয় করতে বাইরে যেতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। এমন ভোগান্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে কুমার ভোগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মান্নান খান বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা এলাকা বাসী মিলে এর আগে সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য আবেদন করেছি কিন্তু তারা কিছুই করেনি।
এখন লৌহজং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যত দ্রুত সম্ভব আমাদের এই শত শত পরিবারকে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে সকলকে পানিবন্দী জীবন থেকে মুক্তি দেয়া হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন স্থায়ী ড্রেন ব্যবস্থার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কুমারভোগ ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে বলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে বলছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বলেন পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো ঐ প্রকল্প বাদ দিয়ে স্থায়ী ড্রেনের বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আসাদউজ্জামান,
জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জ,
০১৬১১৪৩৭৮৮০
নিউজটি শেয়ার করুন




















